জেলা প্রতিনিধি,গাজীপুর:

বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে তরুণীটিকে উত্ত্যক্ত করত এক বখাটে যুবক। একপর্যায়ে ওই বখাটে যুবকের সঙ্গেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে বেড়াতে নিয়ে ওই তরুণীকে ধর্ষণ করে সে। এতে তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে বিয়ের জন্য চাপ দিলে ওই যুবক তরুণীর স্বজনদের নানা হুমকি দিত। একপর্যায়ে বখাটে যুবক ও তার স্বজনরা মিলে তরুণীর ভ্রুণহত্যা করে। পরে গ্রামের মতবরদের চাপে গত ৭ আগস্ট ওই যুবক তরুণীকে বিয়ে করে।

আর বিয়ের দুই সপ্তাহ না পেরোতেই গতকাল শুক্রবার বিকেলে তরুণীকে অবর্ণনীয় নির্যাতনের পর মুখে বিষ ঢেলে হত্যাচেষ্টা চালায় ওই যুবক ও তার স্বজনরা। ভুক্তভোগী তরুণী এখন শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রঙ্গিলা এলাকায়। নির্যাতনের শিকার তরুণী (১৬) পাশের গাজীপুর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের পোশাক কারখানার এক শ্রমিকের মেয়ে।

অভিযুক্ত পলাশ আহমেদ (২৮) পাশের রঙ্গিলা এলাকার মুদি দোকানদার মফিজ উদ্দিনের ছেলে।

এ ঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে পলাশসহ তাঁর বাবা মফিজ উদ্দিন, মা ফাহিমা খাতুনসহ দুই বোন সেতু ও মিতুকে অভিযুক্ত করে শুক্রবার রাতে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

মেয়েটির মা জানান, বিয়ের এক দিন পর থেকেই তাঁর মেয়ের ওপর অবর্ণনীয় নির্যাতন চালাত পলাশসহ তার স্বজনরা। তা জেনে তিনি কথা বলতে চাইলে তাঁকেও হুমকি দিত তারা। তিনি আরো জানান, শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ পলাশের বড় বোন তাঁকে ফোন করে তাঁর মেয়ে অসুস্থ বলে জানায়।

পরে তিনি খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তাঁর মেয়েকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মুমুর্ষূ অবস্থায় তাঁর মেয়েকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে পলাশসহ তার মা-বাবা ও দুই বোন পালিয়ে যায়। পরে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছে তাঁর মেয়েকে একা পান তিনি।

মেয়ের মা অভিযোগ করেন, নির্যাতনের একর্যায়ে তাঁর মেয়ের মুখে বিষ ঢেলে হত্যাচেষ্টা চালিয়েছে পলাশ ও তার মা-বাবাসহ দুই বোন। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শ্রীপুর থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) এনায়েত উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাত্র অভিযোগ পেয়েছি। ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *