নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেট এমসি কলেজের হোস্টেলে আলোচিত ধর্ষণ মামলার আসামীরা ফেসবুকে সক্রিয় থাকলেও তাদের গ্রেফতারে খুঁজে পাচ্ছেনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত ৬ জন এবং অজ্ঞাত আরো ৩ জনকে আসামি করে নগরীর শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী নারীর স্বামী।

অভিযুক্তদের ধরতে ঘটনার রাত থেকেই সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে পুলিশ অভিযুক্ত এক ধর্ষকের রুম থেকে দেশি-বিদেশি অস্ত্র উদ্ধার করেছে। তবে এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

পুলিশ আসামিদের খুঁজে না পেলেও ফেসবুকে অ্যাক্টিভ রয়েছে আসামিরা। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালেও ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে দেখা গেছে এই মামলার দুই আসামিকে। স্ট্যাটাসে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

গণধর্ষণের মামলার ৬ নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুম ফেসবুকে লেখেন-‘এরকম জঘন্য কাজের সাথে আমি জড়িত না। যদি জড়িত প্রমাণ পান প্রকাশ্যে আমাকে মেরে ফেলবেন। একমাত্র আল্লাহর উপর বিশ্বাস আছে। আল্লাহ আমাকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন। তবে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে আমাকে সুইসাইডের দিকে নিয়ে যাওয়া আপনাদের বিচার আল্লাহ করবেন।

এরপর শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে রবিউল ইসলাম  ফেসবুকে লেখেন-

‘সম্মানিত সচেতন নাগরিকবৃন্দ
‘আমি রবিউল হাসান। আমি এম সি কলেজের একজন শিক্ষার্থী। আপনারা অনেকেই চিনেন, আমি কেমন মানুষ তা হয়তো অনেকেই জানেন। গতকাল এম সি ছাত্রাবাসে গণধর্ষণের সাথে, কে বা কারা আমাকে জড়িয়ে অনেক অনলাইন নিউজ করিয়েছেন, আমি এম সি কলেজ ছাত্র, কিন্তু আই হোস্টেলে কখনোই ছিলাম না, আমি বাসায় থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি।

আপনাদের সকলের কাছে অনুরোধ করছি, আমি এই নির্মম গণধর্ষণের সাথে জড়িত নই, আমাদের পরিবার আছে। যদি আমি এই জঘন্যকাজের সাথে জড়িত থাকি তা হলে প্রকাশ্যে আমাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। আমি কোনো ভাবেই এই কাজের সাথে জড়িত নই। সবার কাছে বিনীত অনুরোধ করছি সত্য না যেনে আমাকে এবং আমার প্রাণের সংগঠন ছাত্রলীগের নামে কোনো অপপ্রচার করবেন না। এমসি বিশ্ববিদ্যালের ছাত্রাবাসে গণধর্ষণকারী সকল নরপশুদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

তবে সন্ধ্যার দিকে রবিউল ছাড়া বাকি সকল আসামীর ফেসবুক আইডি বন্ধ করে রেখে ছিল।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *