নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে প্রথমবারের মতো মালয়েশিয়া থেকে সমুদ্রগামী জাহাজ ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের উপযোগী ১৫ হাজার টন পরিবেশবান্ধব ০.৫ মাত্রার লো-সালফারযুক্ত অয়েল আমদানি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।
চট্টগ্রাম বন্দরের মেঘনা ডলফিন জেটিতে ভিড়েছে একটি জাহাজ। জাহাজটিতে প্রায় ১৫ হাজার টন ওজনের লো-সালফার অয়েল রয়েছে।

সোমবার দেশে প্রথমবারের মত শূণ্য দশমিক ৫ (০.৫) শতাংশ সালফার কন্টেন্টযুক্ত সমুদ্রগামী জাহাজের জ্বালানি তেল (আইএফও) গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিপিসি’র চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিঃ/বিপণন) সৈয়দ মেহেদী হাসান, ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বাঃ ও অপাঃ) মো. আবু হানিফ, পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মাসুদুর রহমান, মেঘনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর ছাইফুল্লাহ-আল-খালেদ, যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. গিয়াস উদ্দিন আনসারী ও বাংলাদেশ বাঙ্কার সাপ্লাইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মিজানুর রহমান মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক আবদুল রাজ্জাক।

বিপিসি’র চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান বলেন, বেসরকারি বাঙ্কারিং খাত হতে পারে জাতীয় রাজস্ব আয়ের আরও একটি বড় খাত। প্রধানমন্ত্রীর ২য় দক্ষিণ এশিয়া মেরিটাইম এন্ড লজিস্টিক ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইএমও রেগুলেশন অনুযায়ী সমুদ্রগামী জাহাজে ব্যবহারের জন্য দেশে মেরিন ফুয়েল মজুদ রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে আসা বিদেশি জাহাজ গুলোর চাহিদা অনুযায়ী নতুন গ্রেডের জ্বালানি (বাঙ্কার) প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে। এই জ্বালানি তেল ব্যবহার হলে পরিবেশদূষণের মাত্রা কমে যাবে।

জানা গেছে, মালয়েশিয়ার পিভি নিলি পার্ক বন্দর থেকে লোড হয়ে ‘এমপি টিএমএন প্রাইড’ জাহাজটি ১৪ হাজার ৯৪৬ টন লো-সালফার অয়েল নিয়ে বিপিসির মেঘনা ডিপোতে বার্থিং হবে। বিপিসি থেকে চাহিদা অনুসারে চট্টগ্রাম বন্দর, পায়রা ও মোংলা বন্দরে এই অয়েল সরবরাহ করা হবে।

বিপিসির পরিচালক (অপারেশন ও পরিঃ/বিপণন) সৈয়দ মেহেদী হাসান জানান, ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) বাধ্যবাধকতা থাকায় এই তেল আমদানি হচ্ছে। আগে বাংলাদেশে ব্যবহার করা হতো উচ্চমাত্রার কার্বন নিঃসৃত ফার্নেস অয়েল যা ৩.৫ মাত্রার সালফারযুক্ত। কিন্তু পরিবেশ রক্ষায় আইএমওর চাহিদা মতে এখন থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে ০.৫ মাত্রার সালফারযুক্ত অয়েল। যদিও লো-সালফার অয়েলের মূল্য খানিকটা বেশি।

তিানি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই এ তেল আমদানির কথা থাকলেও করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভুদ্ধ পরিস্থিতিতে তা পিছিয়ে যায়। আগে বেশিরভাগ সমুদ্রগামী জাহাজই সিঙ্গাপুর বা কলম্বো বন্দর থেকে লো-সালফার অয়েল সংগ্রহ করতো।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএএ) সভাপতি এহসানুল হক চৌধুরী বলেন, বিপিসি তুলনামূলক কাছাকাছি দরে এই তেল বিক্রি করতে পারলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

বিপিসির মহাব্যবস্থাপক আবু হানিফ বলেন, ডিসেম্বর পর্যন্ত দেড় লাখ টন লো-সালফার অয়েল আমদানি করা হবে। এর মধ্যে অর্ধেক তেল দরপত্রের মাধ্যমে এবং বাকি অর্ধেক জি-টু-জির ভিত্তিতে আমদানি হবে। সিঙ্গাপুর ভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি এই জ্বালানি তেল বিপিসিকে সরবরাহ করছে।

এফএমএস শিপিং লাইনের স্বত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ জামাল সিকদার বলেন, স্বল্পমাত্রার কার্বন নিঃসৃত ফার্নেস অয়েল আমাদের দেশে সরবরাহ হচ্ছে- এটা খুবই আনন্দের। এতে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড মেইনটেইন করা সহজ হবে। চট্টগ্রাম বন্দরে বাংকার জাহাজের আসা-যাওয়াও বাড়বে।

এতে সরকার যেমন লাভবান হবে, বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হবে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *