নিজস্ব প্রতিবেদক:

সম্প্রতি প্রকাশিত বিদ্যুৎ আইনের গেজেটে ৬২ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, দাহ্য পদার্থ, রান্নাঘরের আগুন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট ও গ্যাস বিস্ফোরণসহ বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড এড়াতে বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মান ও বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করণে এবার হাইভোল্টেজ টেস্টিং ল্যাব স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার।

দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার এই ল্যাব থেকে পরীক্ষা করিয়ে সার্টিফিকেট নিতে হবে। এতে করে দেশে উৎপাদিত ইলেকট্রনিক পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সরকারি কোষাগারে জমা হবে বিপুল অর্থ। কারণ কোম্পানী গুলোকে তাদের পণ্যের মান যাচাইয়ে গুনতে হবে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ।

ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯ সালে দেশজুড়ে ২৪ হাজার ৭৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ঘটে ৮ হাজার ৬৪৪টি দুর্ঘটনা। যা মোট অগ্নিকাণ্ডের ৩৯ শতাংশ।

দেশে বর্তমানে ২০ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই বিদ্যুতে সেবা পাচ্ছে দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ। মুজিববর্ষেই দেশের শতভাগ অঞ্চল বিদ্যুতায়নের আওয়তায় আনা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে সরকার। যা দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ গণমাধ্যমকে বলেন, একটি বিশ্বমানের হাইভোল্টেজ টেস্টিং ল্যাব স্থাপন করা হবে। এটি পাওয়ার সেলের অধীনে একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে আরো বেশি গতিশীল হচ্ছে। জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকীতে শতভাগ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে যত্মের সঙ্গে কাজ করছে সরকার।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইভোল্টেজ টেস্টিং ল্যাব স্থাপন করা গেলে এমন অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের শুদ্ধতা নিশ্চিত করে পণ্যের গায়ে লেভেলিং করা গেলে গ্রাহকরা বৈদ্যুতিক পণ্য কেনার সময় সচেতন হবে। মানহীন বা নকল পণ্য তখন কম দামে পেলেও কিনবে না কেউ। ফলে এসব নিম্নমানের পণ্য ব্যবহারের কারণে শর্টসার্কিট থেকে হওয়া অগ্নিদুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। এতে করে অর্থনৈতিক লাভের পাশাপাশি অনেক প্রাণও সহজে বাঁচানো যাবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *