পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনার রক্তাক্ত জনপদ ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য খ্যাত দুর্গম ঢালার চর এলাকায় কলেজ ছাত্রী দুবোন গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন। নির্যাতিতা দুবোন বেড়া উপজেলার আমিনপুুর থানার ঢালারচর ইউনিয়নের খাস আমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ধর্ষণের শিকার দুজন সম্পর্কে আপন চাচাত বোন এবং তারা স্থানীয় একটি কলেজের ছাত্রী।

সোমবার (২৪ আগষ্ট) রাতে একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রুপ এ ঘটনা ঘটায়। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) আমিনপুর থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত ধর্ষকরা হলেন- একই এলাকার আবুল মোল্লার ছেলে নাজির মোল্লা ও তার ভাই জাহিদ মোল্লা।

আমিনপুুর থানার উপ- পরিদর্শক(এসআই) আব্দুল গাফ্ফার মামলার বরাত দিয়ে জানান, খাস আমিনপুর এলাকার জনৈক নাজির মোল্লা ও জাহিদ মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে মেয়ে দুটিকে উত্যক্ত করে আসছিলো। কলেজ পড়ুয়া এ দুবোনকে বার বার তারা কুপ্রস্তাব দিতেন। তাদের পরিবারের কাছে বিভিন্ন সময়ে চাঁদাও দাবি করেছেন। কিন্তু কোনটিতেই সফল না হওয়ায় তারা ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন। তারা এর শোধ নেয়ার হুমকিও দিতেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ আগষ্ট রাতে কলেজ পড়ুয়া দুবোনকে নাজির মোল্লা ও তার ভাই জাহিদ মোল্লা বাড়ির পাশ থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। তারা দলবলসহ তাদের উপর সারারাত পাশবিক নির্যাতন চালায়।

নির্যাতিতা দুবোনের পরিবারের পক্ষে নাজিম উদ্দিন জানান, তারা ঘটনার পরপরই পুলিশকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ মামলা নিতে কালক্ষেপণ করে। পরে তারা মামলা গ্রহণ করে।

স্থানীয় কিছু লোকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আসামিরা দুর্ধর্ষ প্রকৃতির লোকজন। এজন্য কেউ সহজে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে সাহস পান না। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় মামলা নিতে বিলম্ব এবং আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা হতাশা ব্যক্ত করেন।

এ মামালর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গাফ্ফার শুক্রবার(২৮ আগষ্ট) সন্ধ্যায় জানান, এ পর্যন্ত মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক জানান, থানায় মামলা নেয়া হয়েছে। নির্যাতিদের পক্ষে তাদের একজনের বাবা নাজিম উদ্দিন বৃহস্পতিবার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া নির্যাতিতা দুবোনের ডাক্তারি পরীক্ষাও বৃহস্পতিবার (২৭ আগষ্ট) সম্পূর্ণ হয়েছে। নির্যাতিতা দুবোন পাবনা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ঢালার চর চরমপন্থীদের অভয়ারণ্য বলে পরিচিত। সন্ত্রাসীরা নানা অপকর্ম করে নদী বেষ্টিত এখানকার চরাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় লুকিয়ে থাকে। বিগত ২০১০ সালে ঢালারচর পুলিশ ফাঁড়ির কয়েকজন পুলিশ খড়ি কিনে ফাঁড়িতে ফেরার সময় সন্ধ্যার প্রাক্কালে চরমপন্থীরা তাদের উপর আক্রমন করে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে পুলিশের ৩ জন সদস্য নিহত হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *