জেলা প্রতিনিধি,হবিগঞ্জ:
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে তালিকাভুক্তির পরও বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা না পাওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বঞ্চিতরা। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে তারা শিবপাশা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

অবিলম্বে ভাতার টাকা না দিলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন। পরে এ খবর পেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এসে ভাতা দেয়ার আশ্বাস দিলে তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

শিবপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী আমজাদ তালুকদার জানান, ইউনিয়নের ১১১ জন ভাতা ভোগীকে কার্ড দেয়ার জন্য এক হাজার টাকা করে নেয়া হয়েছে। প্রত্যেকে ছয় হাজার টাকা করে ভাতা পাওয়ার কথা ছিল।

কিন্তু বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ভাতা কমিটির সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান মর্তুজা হাসান ইউনিয়নের ভাতাভোগী কার্ড আটকে রেখেছেন। যে কারণে তারা যথা সময়ে ভাতার টাকা পাচ্ছেন না। ফলে ভাতাভোগীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, প্রথমত এখনও প্রতিবন্ধী তিনজনের কাগজপত্র আসেনি। আর দ্বিতীয়ত ভাতা কমিটির উপজেলা সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনি এখনও তালিকাটি অনুমোদন দেননি। ফলে ভাতা দেয়া যাচ্ছে না। তিনি অনুমোদন দিলেই সঙ্গে সঙ্গে সেটি দেয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, এখানে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যে রাজনৈতিক মনোমালিন্য রয়েছে। এ কারণেই মূলত এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা চেয়ারম্যান মর্তুজা হাসান জানান, এখানে যে ওয়ার্ডে লোক সংখ্যা বেশি সেখানে বেশি, আবার যেখানে লোক সংখ্যা কম সেখানে কম হারে কার্ড পাওয়ার নিয়ম। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান নিজের যেখানে ভোট বেশি সেখানে ১২ থেকে ১৫ জনের নাম দিয়েছেন।

আবার যেখানে তার ভোট কম সেখানে ৪-৫ জনের নাম দিয়েছেন। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তিনি বলেন, আমি বলেছি ২-৩টি কমবেশি হতে পারে। কিন্তু এত কমবেশি মেনে নেয়া যাবে না। গরিব মানুষদের প্রতি অবিচার করা যাবে না। তাকে (ইউপি চেয়ারম্যান) তালিকা ঠিক করে দিতে বলা হয়েছে। তালিকা ঠিক করে দিলেই তা অনুমোদন দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *