জেলা প্রতিনিধি,যশোর:
যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তিন বন্দি কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক গঠিত উচ্চ পর্যায়ের দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি। মঙ্গলবার তারা ঢাকায় ফিরে এসেছেন এবং বুধবারের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে যশোরে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি আরো সময় চেয়ে (মোট সাত দিনের) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। কারণ, ওই কমিটি অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবেন বলে আদালতে আবেদন করেছিলেন।

কিন্তু আদালত কর্তৃক মঞ্জুর করা রিমান্ড শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের সাথে কথা বলার সুযোগ নেই বিধায় তারা ওই সময় আবেদন করেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবুল লাইছ।

অন্যদিকে, যশোরের পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পুলেরহাটস্থ শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র ফের পরিদর্শন করেছেন। তার সাথে ঊর্ধতন অন্যান্য কর্মকর্তা ছিলেন।

তার পরিদর্শনের কথা নিশ্চিত করে কোতয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, ঘটনার পর কী পরিস্থিতিতে আছে ওই কেন্দ্র, সেখানকার বন্দিরা কেমন আছে, নতুন কর্মকর্তারা কিভাবে কাজ করছেন- এসব বিষয়ে পুলিশ সুপার খোঁজ খবর নিয়েছেন।

তবে পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন অর্থাৎ ১৩ আগস্ট ১৮ বন্দির ওপর পৈশাচিক নির্যাতনের পর দুপুরেই মারা যায় এক কিশোর। তাকে হাসপাতালে না নিয়ে মাঠের মধ্যে ফেলে রেখেছিলেন কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি সামাল (ধামাচাপা) দিতে তারা নানা ধরনের পরিকল্পনা করেন। সেখানে রাখা সিসি ক্যামেরায় ধারন করা ভিডিও ফুটেজও মুছে ফেলেন তারা। এমনকি বাকি বন্দিদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় ঘটনা কাউকে না বলার জন্য।

মামলার আলামত হিসাবে জব্দ করা লাঠি, বাঁশের চটা, ক্রিকেট খেলার উইকেট, প্লাস্টিকের পাইপ, কাঠসহ অন্যান্য সরঞ্জাম লুকিয়ে রাখা হয়। অবশ্য পুলিশ গিয়ে ওই আলামত উদ্ধার করে। আর মুছে ফেলা ভিডিও ফুটেজও ভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কিছুটা উদ্ধার করেছে পুলিশ।

অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, ১৩ আগস্ট দুপুরে কেন্দ্রের কারিগরি প্রশিক্ষক (ওয়েল্ডিং) ওমর ফারুক ও ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর একেএম শাহানুর আলম বন্দিদের ধরে অফিসে নেন। এরপর তারাই শুরু করেন মারপিট। পরে তারা চারদিকে পাহারা বসিয়ে অন্য বন্দিদের মারতে নির্দেশ দেন। ফলে বেধড়ক মারপিটে মারা যায় তিন বন্দি। আর আহত হয় ১৫ জন। পুলিশ ও ঢাকাস্থ উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির কাছে এই ধরনের অভিযোগের প্রমাণ আছে।

সমাজসেবা অপধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) সৈয়দ নুরুর বসির জানিয়েছেন, যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ১৩ আগস্টের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন মহাপরিচালকের কাছে জমা দেয়া হবে। কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর রোকিবুজ্জামান জানিয়েছেন, আসামিদের রিমান্ড শেষ হয়েছে। তাদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্তের বাকি কাজ এগিয়ে নেয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *