নিজস্ব প্রতিবেদক:

গ্রাহকের কাছে তিতাসের বকেয়া সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিদ্যুৎখাত, সার কারখানা, ক্যাপটিভ, শিল্পখাত, বাণিজ্যিক, আবাসিক ও মৌসুমি গ্রাহকদের কাছে এই বিশাল অঙ্কের টাকা পাওনা। বিপুল পরিমাণ অর্থ বকেয়া নিয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
কমিটির পক্ষ থেকে এসব বকেয়া বিল আদায়ে তৎপর হওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ জানানো হয়েছে।

রবিবার ( ২০ সেপ্টেম্বর) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে কার্যপত্র থেকে এতথ্য জানা গেছে।

আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকার পরও এখনও কীভাবে গ্রাহকরা সংযোগ পাচ্ছেন— এ নিয়েও সভায় উদ্বেগ জানান কমিটির সদস্যরা। তারা বলেন, বন্ধ থাকার পরও সংযোগ পাওয়ার নেপথ্যে তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়িত। এসব অসাধু ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির সুপারিশ রয়েছে কমিটির পক্ষ থেকে।
কমিটির সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন— বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও কমিটি সদস্য নসরুল হামিদ, মো. আবু জাহির, মো. আলী আজগর, মো. নূরুল ইসলাম তালুকদার, মো. আছলাম হোসেন সওদাগর এবং বেগম নার্গিস রহমান । বৈঠকে কমিটির সদস্য ছাড়াও অংশ নেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এর জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় কার্যবিবরণী পর্যালোচনায় দেখা যায়, আট শ্রেণির গ্রাহকের কাছে তিতাস সংযোগ লাইনের সহায়তায় গ্যাস সরবরাহ করে থাকে। এসব গ্রাহক শ্রেণির কাছে মাসিক গড় গ্যাস বিক্রির পরিমাণ ১ হাজার ৪৮৭ দশমিক ৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ৯৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং বেসরকারি পর্যায়ে ১ হাজার ৩৯৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহকারী এই সংস্থার গ্রাহক পর্যায়ে বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৬১৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। বকেয়ার মধ্যে সরকারি পর্যায়ে ৭৩৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা এবং বেসরকারি গ্রাহকের কাছে ৩ হাজার ৮৮২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

সংসদীয় কমিটি থেকে জানানো হয়েছে, বকেয়া আদায়ের জন্য প্রচার, লিফলেট বিতরণ, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার, নোটিশ প্রদান এবং বিশেষক্ষেত্রে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। তাছাড়া ব্যসায়িক সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমই ও সরকারি দফতরগুলোর সঙ্গে পত্রের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন তারা। কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যে খুব বেশি আশাবাদী হতে পারেননি সংসদীয় কমিটির সদস্যরা। তাদের বক্তব্যে সেটা উঠে এসেছে।
কমিটির সদস্যরা দ্রুত সময়ের মধ্যে বকেয়া টাকা আদায়ের জন্য সুপারিশ জানান।

কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘বিল যে পরিমাণ বকেয়া তা তিন থেকে চার মাসের সমপরিমাণ। এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’ জবাবে টিজিটিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘বিল করার পরে শিল্পের ক্ষেত্রে ৪৫ দিন, আবাসিকের ক্ষেত্রে ২১ দিন ও সিএনজির ক্ষেত্রে ২০ দিনের সময় দেওয়া হয়। কিন্তু এ সময়ে অনেকে বিল পরিশোধ না করার কারণে বকেয়া বাড়ছে।
তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের মধ্যে বকেয়া সমতা পর্যায়ে নিয়ে আসবেন।

কমিটির সদস্য মো. আছলাম হোসেন সওদাগর বলেন, ‘গ্যাস বিতরণে অসংখ্য অবৈধ লাইন চিহ্নিত করা হয়েছে। এর বাইরেও অনেক অবৈধ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। এই অবৈধ লাইন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশ ছাড়া স্থাপন করা সম্ভব নয়।
অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং জড়িতদের শাস্তি দেওয়ার কথা বলেন তিনি।

কমিটির অপর সদস্য মো. আবু জাহির বলেন, ‘আপাতত আবাসিকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ রয়েছে। তারপরও অনেক বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই সংসদসহ বিগত একাধিক সংসদেও অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নের সিদ্ধান্তসহ নিদের্শ ছিল। তারপরেও কার্যপত্রে দেখা যায়, ২০টি সিএনজি পাম্পে অবৈধ সংযোগ রয়েছে। এতে প্রমাণিত জড়িত কেউ না কেউ রয়েছেন।

জবাবে টিজিটিডিসিএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘অবৈধ সংযোগ দিতে যারা সহায়তা করেন তাদের বিরুদ্ধে যথা নিয়মে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একইসঙ্গে যারা এক জায়গায় দীর্ঘদিন কাজ করেন তাদের বদলি করা হচ্ছে, যাতে সিন্ডিকেট করে কিছু করতে না পারেন। ইতোমধ্যে ৮২১ জন কর্মকর্তা এবং ৬৫৬ জন কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘আজকের বৈঠকে আমরা শুধু বিল নিয়ে আলোচনা করেছি। তিতাসের বিষয় নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। তবে বৈঠকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি— পরবর্তীতে তিতাসের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *