অনলাইন ডেস্ক:

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত হ্রাস পাওয়ায় গত শুক্রবার ওয়াল্টার রিড সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। এরমধ্যেই তার বিরুদ্ধে অন্যের জীবন বিপন্ন করার অভিযোগ তুলেছেন সেখানকার এক চিকিৎসক।

তিনি বলেছেন, চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত রোববার গাড়িতে চড়ে ট্রাম্প নিজ সমর্থকদের জন্য যে নাটকীয় উপস্থিতি ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিযুক্ত থাকা সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলে। ঝুঁকি সম্পর্কে জানা থাকা সত্ত্বেও ‘রাজনৈতিক নাটক’ করার জন্য ট্রাম্প এমন কাজ করেছেন, বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. জেমস ফিলিপস জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি ওষুধ বিভাগের একজন অধ্যাপক এবং ওয়াল্টার রিড হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক। গত সপ্তাহান্তের দিনে (রোববার) সেখানেই অবস্থান করছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি।

তিনি এক টুইট বার্তায় জানান, ‘ট্রাম্পের দায়িত্বহীন আচরণ হতবাক’ করে দেওয়ার মতো। তিনি নিজে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরও সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টদের সঙ্গে একই গাড়িতে চড়েছেন।

গত রোববার একটি বিশেষ কালো গাড়ির পেছনে বসে ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টার ত্যাগ করতে দেখা যায় ট্রাম্পকে। স্যুট পরিহিত ট্রাম্প এসময় মাস্ক পরেছিলেন এবং রাস্তার দুই ধারে উপস্থিত সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়েছেন তিনি।

টুইটারে সেই ঘটনার ভিডিও পোস্ট করে সেখানে দেওয়া বার্তায় ট্রাম্প জানান, ‘সড়কে সমবেত কিছু প্রকৃত দেশপ্রেমিক জনতার সাথে দেখা করতে আকস্মিক সফর।

ডা. জেমস পি. ফিলিপস অবশ্য একে নেহাত ‘উন্মাদনা’ বলে সমালোচনা করেছেন। একইসঙ্গে, ওই গাড়িতে থাকা নিরাপত্তা কর্মীরা ভাইরাসের সংস্পর্শে এসেছেন বলে তিনি উল্লেখ করে জানান, এখন তাদের কমপক্ষে দুই সপ্তাহ ‘কোয়ারেন্টিনে’ থাকতে হবে।

নিজ টুইটে তিনি লিখেছেন; ”প্রেসিডেন্টের নেহাত অপ্রয়োজনীয় এ গাড়িতে চড়ে প্রদর্শনীর কারণে, তার গাড়িতে থাকা সকলকে এখন ১৪ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। তাদের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। কেউ মারাও যেতে পারেন। শুধুমাত্র এক রাজনৈতিক নাটকের জন্য তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। ট্রাম্পের নির্দেশেই এ রঙ্গমঞ্চের অংশ হন তারা। এটা চরম পর্যায়ের উন্মত্ত আচরণ।”

তার পর দ্বিতীয় আরেক টুইটে তিনি লেখেন, ”প্রেসিডেন্টের এসইউভি গাড়িটি শুধু বুলেটপ্রুফ নয়, তা রাসায়নিক হামলার বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে পারে। এজন্য বাইরের বাতাস থেকে গাড়িটি বিশেষভাবে সিল করা। কিন্তু, এতে করে গাড়ির ভেতরে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি থাকলে তার মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। কাণ্ডজ্ঞানহীনতার চূড়ান্ত এক নজির। সিক্রেট সার্ভিসের যে সদস্যরা বাধ্য হয়ে সেখানে ছিলেন, তাদের জন্য আমার ভীষণ চিন্তা হচ্ছে।”

আরেক জন চিকিৎসক এবং জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক জনাথন রেইনার জানান, ”ওয়াল্টার রিড হাসপাতালের বাইরে প্রমোদভ্রমণে বেরিয়ে ট্রাম্প নিরাপত্তা কর্মীদের জীবনকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলেছেন।”

”চিকিৎসক হিসেবে আমরা যখন হাসপাতালে কোনও কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীকে দেখতে যাই- তখন আমরা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম পিপিই পরে থাকি। কিন্তু, নিরাপত্তা কর্মীদের জন্য তেমন সুরক্ষা ছিল না। এটা নির্বুদ্ধিতার চরম নিদর্শন,” তিনি যোগ করেন।

এব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জুড ডিরি বলেন, ”গাড়িতে চড়ার বিষয়টিকে ওয়াল্টার রিড হাসপাতালের মেডিকেল টিম নিরাপদ বলে সবুজ সংকেত দিয়েছিলেন। প্রেসিডেন্ট এবং তার সঙ্গীদের নিরাপত্তায় এসময় পিপিই-সহ সকল ধরনের সুরক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল”- বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে নিজ ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প- তার সংক্রমিত হওয়ার ঘটনাকে ‘বিচিত্র এক অভিজ্ঞতা’ বলে উল্লেখ করে জানান, এর ফলে তিনি রোগটি সম্পর্কে ‘অনেককিছু শিখতে’ পেরেছেন। ইতোপূর্বে, অবশ্য তিনি নিজেই কোভিড-১৯ রোগের হুমকি উড়িয়ে দিয়েছিলেন, নিজ দেশে এর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব চলার সময়ে।

এ অবস্থায় গত শুক্রবার তার দেহে সংক্রমণ ধরা পড়ার কিছুক্ষণ পরই তাকে ওয়াল্টার রিড সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ট্রাম্প ভিডিও’তে বলেন, ” সেখানে যাওয়া ছিল স্কুলে যাওয়ার মতোই। স্কুলে যেমন অনেক কিছু শিখেছি, তেমন চমৎকার অভিজ্ঞতা ওয়াল্টার রিডে গিয়েও হয়েছে। এটা অবশ্য শিশুদের বিদ্যালয়ের পড়ার মতো সহজ নয়। সেটা আমি বুঝি এবং বেশ ভালোই অনুধাবন করি। দারুণ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। অবশ্যই এব্যাপারে আপনাদের সকলকে আরও অনেক কিছু জানাব।”

সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার / টিবিএস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *