জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:

আগামী বছরের জুলাই থেকে সারাদেশে ঘরে বসেই দেয়া যাবে জমির খাজনা।পরীক্ষামূলকভাবে সেবাটি চালু হচ্ছে চলতি বছর থেকেই। এর ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আগামী বছরের জুলাই থেকে সারাদেশে পুর্ণতা পাবে সরকারি এ সেবাটি।

প্রথম পর্যায়ে আটটি জেলার নয়টি উপজেলার নয়টি পৌরসভা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ১৯টি মৌজায় খাজনা অনলাইনে নেয়া হবে।

‘হাতের মুঠোয় ভূমিসেবা’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বুধবার ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘অনলাইন ভিত্তিক ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার পাইলটিং (১ম পর্যায়)’ কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভূমি সংস্কার বোর্ড এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

নতুন সফটওয়্যারের উদ্বোধন করে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘এখন যে কোনো সময়, যে কোনো জায়গা থেকে ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত তথ্য দেখা যাবে, করো পরিশোধ করা যাবে। ফলে সময় ও যাতায়াত খরচ বাঁচবে।’

পাঁচটি পৌর ভূমি অফিসের অন্তর্গত ১৩টি মৌজা হচ্ছে: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ ও দক্ষিণ মতলব উপজেলার মিরপুর, গুদারারচর, নোয়াগাঁও, রুদ্রগাঁও, ভাটিরগাঁও, চরহোগলা, মোবারকদি ও ১৭৬ নং ঢাকিরগাঁও মৌজা, মানিকগঞ্জ সদরের বনগ্রাম চক ও গঙ্গাধর পট্টি মৌজা, কিশোরগঞ্জ সদরের করমূলী ও মারিয়া মৌজা এবং জামালপুর সদরের সাতপাকিয়া মৌজা।

চারটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ছয়টি মৌজা হচ্ছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গীপাড়া মৌজা, ঢাকার সাভারের বাগধনিয়া ইউনিয়নের মজিদপুর ও আনন্দপুর মৌজা, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার খাসখামা ইউনিয়নের হাইলধর ও মালঘর মৌজা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর ইউনিয়নের ‘দেওভোগ ‘ম’ খণ্ড’ মৌজা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের ৫১১টি উপজেলা ভূমি অফিসের অধীন তিন হাজার ৪৬২টি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ কোটি হোল্ডিং থেকে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ প্রায় ৬০৬ কোটি টাকা আদায় করা হয়। প্রায় তিন কোটি ৬০ লাখ মানুষ এসব ভূমি অফিস থেকে সেবা নেন।

তবে কর দেয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা না থাকায় অনেকেই জটিলতায় পড়েন। আবার জমির মালিক দেশের বাইরে থাকলে কর দিতে পারেন না। কর পরিশোধে সশরীরে অফিসে যেতে হয় বলে সময়ের পাশাপাশি ও খরচও বাড়ে।

উদ্যোগ দুর্নীতি রোধ করবে আশা করে মন্ত্রী বলেন, ‘ভূমি কর দেওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত দেশের তিন কোটি ৬০ লাখ মানুষ এই সেবার মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবেন। ‌‌‌সেবা গ্রহীতাদের স্বল্প ব্যয়ে, কম সময়ে ও হয়রানিমুক্ত সেবা দেয়া যাবে।’

মৌজা রেট সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয় মূলত আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে। আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিষয়টি তুলে ধরব।

এর আগে ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা সফটওয়ার ব্যবহার করে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে প্রাপ্ত দাখিলার বৈধতা দিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করে।

অনুষ্ঠানে ভূমি সচিব মাক্‌ছুদুর রহমান পাটওয়ারী জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি রাজস্ব আদায়ের জন্য নির্বাচিত ভূমি অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও ভূমি সংস্কার বোর্ডের কর্মকর্তারা। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকসহ মাঠ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাও ভিডিও কনফারেন্সে এতে অংশ নেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *