অনলাইন ডেস্ক:

চলতি অর্থবছরের শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)। প্রথম মাসে ১৪ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ ১ টাকাও খরচ করতে পারেনি। এদের অনুকূলে ২৬৯টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১৫ হাজার ৮৯৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা মহামারীর সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) গাফিলতি ও অর্থছাড়ে বিলম্ব এজন্য দায়ী। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ চিত্র।

প্রতিবেদনে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, অর্থবছরের প্রথমদিকে এভাবে কাজ না করে শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে কাজ করার চিরাচরিত রীতির ফলে এডিপির মানসম্মত বাস্তবায়ন হয় না।

এ প্রসঙ্গে আইএমইডির সদ্য সাবেক সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে পিডিদের গাফিলতি তো আছেই। কেননা, তারা মাসভিত্তিক বাস্তবায়নের যে লক্ষ্য সেটি মেনে চলেন না।

তবে এ অর্থবছরে কোভিড-১৯ একটি অন্যতম ফ্যাক্টর। সেই সঙ্গে প্রথম মাস হওয়ায় টাকা ছাড় হতে কিছুটা সময় লেগে যায়। ফলে শেষ দিকে গিয়ে তাড়াহুড়ো করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হয়। তখন মানসম্মত বাস্তবায়ন প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম মাস গত জুলাইয়ে এডিপির বাস্তবায়ন হয়েছে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ সময়ে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ২৫৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ।

ওই সময় খরচ হয়েছিল ৩ হাজার ৯৫১ কোটি টাকা। তুলনামূলক কম খরচ হয়েছে ৬৯৭ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১১ কোটি টাকা।

প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেয়া গেছে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় ১০৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ রয়েছে ৫ হাজার ৯৫৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

কিন্তু গত ১ মাসে একটি টাকাও খরচ হয়নি।

এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে ২০টি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ দেয়া ৩ হাজার ৮৭৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে ১২টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ২ হাজার ১৪১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। জননিরাপত্তা বিভাগের ৩৩টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ ১ হাজার ৭৪৩ কেটি টাকা। জুলাই পর্যন্ত এসবের কোনোটিতেই কোনো টাকা খরচ হয়নি।

শূন্য অগ্রগতির অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে- সুরক্ষা সেবা বিভাগ, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

এক শতাংশের নিচে বাস্তবায়ন হওয়া মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কয়েকটি হচ্ছে- সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ (শূন্য দশমিক ৬৯ শতাংশ); বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (দশমিক ০৪ শতাংশ); মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ (শূন্য দশমিক ৮৪ শতাংশ); প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় (দশমিক ৩২ শতাংশ); সেতু বিভাগ (দশমিক ০২ শতাংশ); নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় (দশমিক ১০ শতাংশ); প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (থোকসহ) (দশমিক ০৩ শতাংশ) এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ (দশমিক ২১ শতাংশ)। আরও রয়েছে- কৃষি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, আইন ও বিচার বিভাগ, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের ১ মাসে এডিপি বাস্তবায়নে এগিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগ হচ্ছে- মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগ। ১ মাসে এসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের হার ৩-৬ শতাংশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *