নিজস্ব প্রতিবেদক:
এখন থেকে ওএমএস, খাদ্যবান্ধব টিআর, কাবিখা, ভিজিডি, ভিজিএফ, জিআর, ইপি-ওপিসহ বিভিন্ন খাতে খাদ্য অধিদপ্তরের চালের বস্তার গায়ে দেওয়া হবে বিতরণকৃত স্টেনসিল মার্ক। আগামী বুধবার খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ডিজিটাল এ পদ্ধতি চালু করা হবে। আগামী আমন মৌসুম থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শুরু হবে সংগ্রহ কার্যক্রম। সংশ্নিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, খাদ্য অধিদপ্তরের বিতরণ করা চালের বস্তায় অমোচনীয় লাল কালির এই স্টেনসিলই বলে দেবে ওই চাল কোন জেলা, উপজেলা, খাত, মাস, সন, এলএসডি ও সিএসডি বা কোন প্রতিষ্ঠানের। ফলে কোথাও চুরির চাল ধরা পড়লে ডিজিটাল সিল দেখেই বোঝা যাবে কারা এর সঙ্গে জড়িত।

বর্তমানে বস্তার গায়ে ‘শুধু খাদ্য অধিদপ্তরের জন্য তৈরি’ লেখা থাকে। ফলে চুরির চাল কোন জেলা-উপজেলার বা কোন গুদামের, তা কেউ স্বীকার করে না। ধরা পড়ে না মূল অপরাধী। একই সঙ্গে মিল মালিকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা সিদ্ধ ও আতপ চালের বস্তায় দেওয়া হবে স্পষ্ট ডিজিটাল সিল।

এ সিলে থাকবে মিলের নাম-ঠিকানা, সংগ্রহের মৌসুম, খাদ্যগুদাম, জেলার নাম ও উৎপাদনের সময়। তথ্যবহুল ও স্পষ্ট ডিজিটাল এই সিল দেখে সহজেই বোঝা যাবে, কোন বস্তার চাল কোন মিল মালিকের। ফলে কোনো মিল মালিক খারাপ বা পচা চাল সরকারের কাছে বিক্রি করলে পরবর্তী সময়ে সহজে তা চিহ্নিত করা যাবে। বর্তমানে চাল সংগ্রহের বস্তায় অস্পষ্ট ছোট একটি সিল দেওয়া হয় এবং অল্প দিনের মধ্যে মুছে যায়। তাই সরবরাহকৃত চাল খারাপ বা পচা হলে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারাও সঠিক অপরাধীকে শনাক্ত করতে পারেন না। মিল মালিকরাও স্বীকার করেন না।

খাদ্য বিভাগের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে সরকারি চাল চুরিতে জড়িত অনেকে ধরা পড়ছে। এসব অপরাধের সঙ্গে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, খাদ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত।

চুরির চালের বস্তা ধরা পড়লেও সংশ্নিষ্টরা নানা অজুহাতে বলেন, এটা তার গুদামের চাল নয় অথবা পাশের উপজেলা বা জেলার। নানা ধরনের ফাঁকফোকর দিয়ে আসল অপরাধীরা বেরিয়ে যায়। আবার অনেক চাল ব্যবসায়ী খাদ্যগুদামের বস্তায় চাল রাখায় বা সরকারি অনুদানের চাল সংশ্নিষ্টদের কাছ থেকে কেনার পর হয়রানির শিকার হন।

কারণ, ব্যবসায়ীরা কোন ব্যক্তি বা খাতের চাল কিনেছেন তা বস্তা দেখে চিহ্নিত করার উপায় ছিল না। ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালত চাল ব্যবসায়ীদের কাছে খাদ্যগুদামের চালের বস্তা পেলে চাল কেনার কাগজপত্র দেখতে চাইতেন। কোনো ব্যবসায়ী চাল কেনার পরও যথাযথ কাগজ দেখাতে না পারলে হয়রানির শিকার হতেন।

এখন থেকে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা, সিএসডি-এলএসডির সুনির্দিষ্ট কোড নম্বর অমোচনীয় লাল কালিতে চালের বস্তার গায়ে লেখা থাকবে। বস্তা উৎপাদনের মাস, সন এবং খাতের নাম দেখে বোঝা যাবে, ব্যবসায়ীরা চালের বস্তা কোথায় পেয়েছেন।

জানা গেছে, স্টেনসিল দেওয়ার কাজ শ্রম হস্তার্পণ ঠিকাদার দ্বারা নিয়োজিত শ্রমিকদের দ্বারা পূর্বনির্ধারিত কাজের অতিরিক্ত হিসেবে সংযুক্ত করে সম্পাদনের ব্যবস্থা করতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের চিঠি দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ-সংক্রান্ত বিল সংশ্নিষ্ট বিষয় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা মনিটর করবেন। এ কাজে নিয়োজিত শ্রমিককে অবশ্যই অক্ষরজ্ঞানসম্পন্ন হতে হবে।

জানা গেছে, বিতরণ করা স্টেনসিলটি অবশ্যই কম্পিউটার কম্পোজ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই অমোচনীয় রং ছাড়া অন্য রং ব্যবহার করা যাবে না। সিলটির হাতলওয়ালা কাঠের ফ্রেম (৮ দশমিক ২৫ ও ৪ দশমিক ২৫ ইঞ্চি) ও রাবার স্ট্যাম্প (৮ ও ৪ ইঞ্চি) দিয়ে তৈরি করতে হবে।

আধা লিটার শতভাগ লাল রঙের সঙ্গে ২ লিটার ফ্লেক্সো থিনার মিশিয়ে লাল রঙের মিশ্রণ তৈরি করতে হবে এবং ট্রের মধ্যে রাখা ফোমে রঙের মিশ্রণ ঢেলে রাবারস্ট্যাম্পে ছাপ দিয়ে বিতরণকৃত খাদ্যশস্যের বস্তায় স্টেনসিল মার্ক দিতে হবে। আর সংগ্রহের ডিজিটাল স্টেনসিলের স্ট্ক্রিনপ্রিন্টের ভেতরের সীমানার মাপ হবে ১৬ ু ১৪ ইঞ্চি।

মূল অক্ষর ও সংখ্যার আকার ১ দশমিক ২৫ থেকে ১ থেকে দশমিক ৫ ইঞ্চি হবে। স্ট্ক্রিনপ্রিন্টের ওপর রং ঢেলে দেওয়ার জন্য কাঠের সঙ্গে রাবার যুক্ত করে একটি কাঠের হ্যান্ডল তৈরি করতে হবে। বালতিতে ৫ লিটার পানি দিয়ে তার মধ্যে ৩০ গ্রাম বা দুই চা চামচ সবুজ রং মেশাতে হবে।

এর পর ১৫০ মিলি সাদা গাম ঢেলে ৮ থেকে ১০ মিনিট ভালোভাবে নাড়তে হবে, যাতে সবুজ রঙের গাড় মিশ্রণ তৈরি হয়। এর পর বস্তার ওপর ডিজিটাল সিল দেওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *