কক্সবাজার প্রতিনিধি:

কক্সবাজারে গরু চুরির অভিযোগ এনে কোদাল দিয়ে কিশোরের (১৫) মাথা ন্যাড়া করার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী কিশোরকে নির্বিচারে রাতভর করা হয়েছে ব্যাপক নির্যাতন।

গরুর চুরির অভিযোগ করা হলেও সেই গরুর নির্যাতনকারী জালাল আহমদের বাড়িতেই আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

এদিকে এই ঘটনার ছবি-ভিডিও মোবাইলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে নির্যাতনকারীরা।শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজারের উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নির্যাতনের শিকার ছৈয়দ আহমদ উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম সোনারপাড়া এলাকার জাকির হোসেনের ছেলে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত জালাল আহমদসহ ৪ জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতনের শিকার ছৈয়দ আহমদের বোন জোবাইদা বেগম

ভূক্তভোগীর বোন জোবাইদা বেগম জানান, স্থানীয় সামশুল আলমের ছেলে জালাল আহমদ বিনা অপরাধে আমার ভাই সৈয়দ আহমদকে সোনারপাড়া বাজার থেকে ধরে নিয়ে গরু চুরির অভিযোগ এনে ব্যাপক নির্যাতন করে। সারারাত বাড়ির উঠানে গাছের সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দিয়ে মাথা ন্যাড়া করে দেয়।

পরে কোদাল দিয়ে মাথা ন্যাড়া করার নামে মাথায় আঘাত করে। এ ঘটনায় আমার ভাই জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সকালে স্থানীয় ইউপি মেম্বার মোহাম্মদ রফিক ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেছে।

জোবাইদা বেগম আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার আমার ভাই এখন গুরুতর অসুস্থ। সে উখিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার নাক এবং মুখ দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছে।

এ কারণে আমি নিজে বাদী হয়ে সুষ্ঠু বিচার চেয়ে অভিযুক্ত জালাল আহমদ সহ ৪জনকে আসামি করে উখিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি পুলিশ বিচারের আশ্বাস দিয়েছে।

অভিযুক্ত জালাল আহমদ মানবপাচারসহ বহু মামলার আসামি। বর্তমানে সাগরপথে মানবপাচার বন্ধ থাকায় নতুন করে ইয়াবা কারবারে জড়িয়ে পড়ে জালাল আহমদ। তার অপকর্মের খবর পুলিশকে বলে দিয়েছে সন্দেহে আমার ভাইকে গরু চোরের অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ রফিক সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নির্যাতনের শিকার ছৈয়দ আহমদ একজন ক্ষদ্র দোকানদার। তাকে স্থানীয় জালাল আহমদ গরু চুরির অভিযোগে বাজার থেকে ধরে নিয়ে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে আমি নিজেই গিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে পুলিশকে তাৎক্ষণিক মৌখিক অবহিত করেছি।

তিনি আরও জানান, যে গরুটি চুরির অভিযোগ করা হয় সে গরুটি অভিযুক্তদের বাড়িতেই ছিল। তবু অপরাধী হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে মারধর না করতে অনুরোধ করা হয়। এরপরও তা মানেনি। জালাল সেখানে গিয়ে উল্টো আমার সাথে বিতর্ক করে বসে। তার সঙ্গে যোগ দেয় আরও কয়েকজন। বাকবিতণ্ডার পর বাড়িতে চলে এসেছি।

জালিয়াপালং ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী বলেন, নির্যাতিত ছেলেটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সে চুরির সঙ্গে জড়িত নয় বলে জেনেছি। যিনি নির্যাতন করেছেন তার সঙ্গে ওই যুবকের পরিবারের দ্বন্দ্ব ছিল। প্রতিশোধ নিতে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

মুঠোফোনে অভিযুক্ত জালাল উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এলাকায় যাতে আর কোন সময় গরু চুরির মতো ঘটনা না ঘটে, পুরো এলাকাবাসীকে শিক্ষা দিতে এটি করা হয়েছে। তাতে অন্য কোন উদ্দেশ্য নেই।

উখিয়া থানার নবাগত ওসি মোহাম্মদ মন্জুর মোরশেদ জানান, আমি সবেমাত্র থানায় যোগদান করেছি। অভিযোগটি আমার কাছে এখনো আসেনি। এ রকম অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *