নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীতে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু ও ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গেল রোববার রাতে মহাখালীতে মেট্রোপলিটান মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. ফয়জুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনেন রোগীর স্বজনরা।

তারা বলেন, অপারেশনের পর ১৪ দিন ধরে সেলাই না করায় রোগীর মৃত্যু হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের দাবি, অতিরিক্ত ইনফেকশনের কারণেই মৃত্যু হয়েছে রোগীর।

রোগীর স্বজনরা জানান, বুকের ডান পাশে ফোঁড়ার মতো হওয়ার কারণে গেলও ২২ আগস্ট রাজধানীর বাসাবোর ৫৫ বছর বয়সী খুরশিদ আলমকে মেট্রোপলিটান মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করেন তার আত্মীয়রা। প্রথমে খুরশিদ আলমকে অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ডা. ফয়জুল ইসলাম মেট্রোপলিটন মেডিকেল সেন্টারে নেয়ার পরামর্শ দেন।

রোগীর স্বজন সাইফুর রহমান বলেন, আমাদের রোগীকে আমরা প্রথমে গ্রিন লাইফ হাসপাতালে দেখাই ডা. ফয়জুল ইসলামকে। তিনি আমাদেরকে মেট্রোপলিটান মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে আসেন চিকিৎসা করার জন্য। তারপর তিনি চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে আমাদের রোগীকে মেরে ফেলেন।

এ হাসপাতালে নেয়ার পর নানা কারণে অতিরিক্ত টাকা দাবির অভিযোগ তুলে মৃতের স্বজন জানান, গত মাসের ২৪ তারিখে অপারেশন হলেও অপারেশন স্থান সেলাই না করেই চিকিৎসা দিচ্ছিলেন চিকিৎসক। ১৪ দিন পরে তাদের মনে হলো সেলাই করা দরকার। আমাদের বলা হয়েছে নরমাল সেলাই করা হবে। সেলাই করতে গিয়েই সে আমার রোগীকে মেরে ফেলছে।

সেলাইয়ের আগেরদিন পর্যন্ত তিনি আমাকে ব্ল্যাকমেইল করেছেন। দেড় থেকে দুই লাখ টাকার একটা চুক্তি ছিল। কিন্তু তিনি অপারেশনটা করার পর সেলাই না করে খোলা রেখে আমাদের জিম্মি করে বিল করেছেন তিন লাখ টাকা। আমি এই ডাক্তার ও হাসপাতালের বিচার চাই।

মেট্রোপলিটান মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক ডা. ফয়জুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, কোনও টাকা চাইনি আমি এবং আমার সাধ্যমতো আমি চিকিৎসা দিয়েছি রোগীকে। তিনি খুব ঝুঁকিপূর্ণ রোগী ছিলেন। তার বুকে টিবি হয়েছিল। সেখান থেকে পানি বের করা হয়েছিল। ইনফেকশন হয়েছিল। সেই ইনফেকশন বুকের ভিতরে, লিভারের পাশে, পাঁজরের পাশেসহ বিভিন্ন জায়গাতে ছড়িয়ে পরে।

রাজধানীর মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের পশ্চিমপাশে অবস্থিত হাসপাতালটির এক কর্মচারী গণমাধ্যমকে জানান, ৩০০ বেডের এই হাসপাতালটিতে রোববার রোগী ভর্তি ছিল মাত্র ২৯ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *