রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী:

ফারুক হোসেন ফিটু (৪২) পড়াশোনায় মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হতে না পারলেও  প্রতারণায় পেয়েছেন সর্বোচ্চ খেতাব। আর তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সহস্রাধিক মানুষ নাকানি চুবানি খেয়েছেন। অবশেষে ফিটু নিজেই পড়লেন পুলিশের ফাঁদে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে সাধারণত সবাই খবরের কাগজের প্রধান প্রধান শিরোনাম পড়ে থাকেন। আর প্রতারক ফিটুর কাছে খবরের কাগজের প্রধান শিরোনাম যেন মূল্যহীন! সে প্রতিদিন খবরের কাগজে খুজে বেড়াতো নিখোঁজ ও হারানো বিজ্ঞপ্তি। কারণ এতেই তৈরি হবে তার প্রতারণার জাল।

ফিটু বিজ্ঞপ্তির দেয়া ঠিকানা ও জিডির নম্বর সংগ্রহ করে নিজেকে সংশ্লিষ্ট থানার ওসি অথবা এসআই পরিচয় দিতেন। এরপর চলত নিখোঁজদের সন্ধান চাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতারণা করে অর্থ আদায়। সব টাকা তিনি নিতেন বিকাশের মাধ্যমে।

গত চার বছর ধরে এভাবে সহস্রাধিক মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে বহু অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ফিটু। তার প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হতো ১৬টি মোবাইল ও ২৪টি সিমকার্ড। সব সিম ও বিকাশ নম্বর রেজিস্ট্রেশনেও করেছে জালিয়াতি  জাতীয় পরিচয়পত্রটি ছিল নকল।

ফিটুর বাড়ি পাবনা জেলার আমিনপুর থানার চক আব্দুল শুকুর গ্রামে। তার বাবার নাম নাদের শেখ। পাবনা কাজির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন ফিটু।

প্রতারণার দায়ে মঙ্গলবার তাকে পাবনার আমিনপুর থানার চক আব্দুল শুকুর এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহযোগিতায় রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানা পুলিশ গ্রেফতার করে।

প্রতারক ফিটু ২০০১ সালে ঢাকায় গিয়ে ট্রপিক্যাল সিকিউরিটি হোমস লিমিটেড নামক সিকিউরিটি কোম্পানিতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত চাকরি করেন। এরপর তিন বছর পাবনায় থেকে ২০১২ সালে আবার ঢাকায় যান তিনি। ২০১২ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন স্থানে চা বিক্রি করেন। এরপর ২০১৭ সালের পর থেকে তিনি দেশের বিভিন্ন থানার পুলিশ পরিচয় দিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়া লোকদের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার কাজ করতেন।

গত মাসের ২৯ তারিখে রাজপাড়া থানার একজন এসআই আরএমপি সদর দফতরে অভিযোগ করেন যে, রাজপাড়া থানার এসআই মাসুদ আলমের পরিচয় দিয়ে চারটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে নগরীর ডাবতলা এলাকার তিনজন ব্যক্তিকে ফোন করা হয়েছে।

ফোন করে পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি তদন্ত, উদ্ধার ও উদ্ধারকৃত ডকুমেন্ট পাঠানোর জন্য টাকা দাবি করেন।

পরে তারা থানায় অভিযোগ করলে দেখা যায়- রাজপাড়া থানার এসআই মাসুদ ও থানার কেউ বিষয়টি সম্পর্কে জানেন না। তখন রাজপাড়া থানা পুলিশ মহানগর পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নম্বরগুলো প্রেরণ করে।

নম্বরগুলো পাওয়ার পর ২১ দিন বিশ্লেষণ করে সাইবার ক্রাইম ইউনিট মিথ্যা পরিচয়দানকারী ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করে। এরপর তাকে পাবনা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

ফারুক হোসেনকে গ্রেফতারের পর বুধবার দুপুরে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, ফারুক হোসেন গত কয়েক বছর ধরে পুলিশের ওসি, এসআই পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করছেন। প্রতি মাসে কমপক্ষে ২০ জনের কাছ থেকে সারা দেশে এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *