শাহজালাল ভূঞা,ফেনী:

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের পূর্ব পাঠানগড় গ্রামে চাঁদা না দেয়ায় ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা,পঙ্গু  ও মাদকের মিথ্যা মামলা দেয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী গিয়াস উদ্দিন দুলাল বাদি হয়ে ফেনী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ছাগলনাইয়া থানার তৎকালীন ওসি এম.এম মুর্শেদ ও ১০ পুলিশ সহ ১৩ জনকে আসামী করা হয়েছে।

যাদের নামে মামলা হয়েছে তারা হলেন- ছাগলনাইয়া থানার তৎকালীন ওসি এমএম মুর্শেদ, এসআই শহীদুল ইসলাম, এসআই দেলোয়ার হোসেন, এসআই খোরশেদ আলম, এএসআই ফিরোজ আলম, এএসআই মো: মাহবুবুল আলম সরকার, কনস্টেবল সুকান্ত বড়–য়া, কনস্টেবল মো: নুরুল আমিন, কনস্টেবল মো: মাঈন উদ্দিন, কনস্টেবল মো: নুরুল আমিন, কনস্টেবল মো: সিরাজুল ইসলাম, উপজেলার এলনাপাথর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সোর্স আবুল হাসেম, সোর্স আবুল খায়ের

ভুক্তভোগী গিয়াস উদ্দিন দুলাল জানান, ২০১৯ সালের ১৭ জানুয়ারি সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের রানীরহাটে তিনি মাটি ক্যারিংয়ের কাজ করছিলেন। ঘটনার দিন বিকালে প্রকাশ্যে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে পাঠাননগর এলাকার ব্রাদার্স ব্রিক ফিল্ডের ভিতর নিয়ে যায়। সেখানে চোখ বেঁধে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে। দাবীর মুখে ১ লাখ টাকা দিতে রাজীও হন তিনি।কিন্তু পুলিশের দাবিকৃত ৫লাখ টাকা না দেয়ায় পরবর্তীতে তাকে শুভপুর ইউনিয়নের বল্লভপুর এলাকার চম্পকনগর রাস্তার মাথা সংলগ্ন জনশূন্য এলাকায় নিয়ে যায়।

সেখানে নিয়ে প্রথমে লাঠি ও তাদের সাথে থাকা অস্ত্রের বাঁট দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করে। একপর্যায়ে ওসি মুর্শেদ ডান পায়ের রানে শর্টগান ঠেকিয়ে দুই রাউন্ড গুলি করে। এসআই মো: শহীদুল ইসলাম ও এএসআই মাহবুবুল আলম সরকার একই পায়ে গুলি করে। মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে ভেবে তারা তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। চিকিৎসকরা তার নিরাপর্তা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। চিকৎসাদিন অবস্থায় তিনদিন পর হাসপাতালে অপারেশন করে ডান পা কেটে ফেলার পর তিনি পঙ্গুত্ব বরন করেন।

দুলাল আরো জানান,সেদিন আমাকে মেরে ফেলতে না পেরে পুলিশ নিজেদের রক্ষার্থে উল্টো আমার কাছ থেকে ১ হাজার ৪শ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখিয়ে মাদক আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিলো। ওই মামলায় কারাভোগও করতে হয়েছে।

এদিকে আদালত সূত্র জানায়, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দিয়েছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা ঘটনার তদন্ত করে ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে আদেশ দিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *