নিজস্ব প্রতিবেদক,চট্রগ্রাম:

চট্রগ্রাম মহানগরীতে এক সিনিয়র অফিসারকে (পুলিশ পরিদর্শক) ঘুষি মেরে  নাক ফাটিয়েছেন এক উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই)। শুধু নাক ফাটিয়ে ক্ষান্ত হননি তিনি। পুলিশ পরিদর্শককে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে টানাহেঁচড়া করা হয়। পরে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি মিটমাট করা হলেও অভিযুক্ত এসআই রবিউল ইসলাম বহাল তবিয়তে আছেন কোতোয়ালী থানার সিআরবি ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসাবেই।

এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার বরাবর কোতোয়ালী থানার এসআই রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন মারধরের শিকার মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক আফতাব হোসেন।

এদিকে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে ঘটনা দামাচাপা দিতে তৎপরের অভিযোগ উঠেছে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। নগরের রিয়াজুদ্দিন বাজারের প্যারামাউন্ট সিটি নামে একটি বিপণি বিতানের নিচ তলায় এ ঘটনা ঘটে।

সিনিয়র কর্মকর্তার সঙ্গে জুনিয়র কর্মকর্তার এমন আচরণে ক্ষুব্ধ নগর পুলিশের বিভিন্ন শ্রেণির সদস্যরা। ঘটনার পর তাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ পরিদর্শক আফতাব নগর পুলিশে চৌকষ ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। জঙ্গি দমন অভিযানের জন্য পুরস্কৃতও হন তিনি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা। তারা বলছেন, ‘এ ঘটনার বিচার না হলে উর্ধ্বতন ও অধস্তনদের মধ্যে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়বে।

গত ২৫ অক্টোবর বিকালে সদ্য জন্ম নেওয়া সন্তানের আকিকার জন্য বাজার করতে তার পরিচিত হাসান নামে এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে রিয়াজউদ্দিন বাজার যান তিনি। সাড়ে চারটার দিকে প্যারামাউন্ট সিটি বিপণি বিতানের নীচতলায় বাজার করা অবস্থায় ৮-১০ জন ব্যক্তি আসে। এরমধ্যে একজন তার হাতে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। নিজের পরিচয় ও তার হাতে থাকা ওয়াকিটকি দেখিয়ে হ্যান্ডকাপ লাগানোর কারণ জানতে চাইলে সাদা পোশাকে থাকা এসআই রবিউল তার নাকে ঘুষি মারেন। এতে নাক ফেটে রক্তাক্ত হন তিনি। এ সময় কোতোয়ালী থানার এএসআই অনুপও উপস্থিত ছিলেন।

পরে কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক তদন্তের সঙ্গে কথা বলে আফতাবের হাতকড়া খুলে দেয় রবিউল। একপর্যায়ে ওখান থেকে তাকে ও হাসানকে কোতোয়ালী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে জানতে পারেন একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করে মারধর করা হয়েছে। অভিযোগে আফতাব পেশাগত জীবনে তার অর্জন তুলে ধরে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশ কমিশনারের কাছে সুবিচার প্রত্যাশা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *