সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরায় বাজারের ব্যাগের ভিতর গাছের ডালে ঝুলতে থাকা নবজাতক ‘মহারাজ’কে দত্তক নিতে গত ২৪ ঘণ্টায় জমা পড়েছে ২৯টি আবেদন।

যাছাই-বাছাই শেষে সিদ্ধান্ত দেবে সাতক্ষীরার সদর সহকারী জজ আদালত (শিশু আদালত)। বিচারককে সহায়তা করতে গঠন করা হয়েছে শিশু কল্যাণ বোর্ড।

পাঁচ সদস্যের এই বোর্ড বাছাই করেছে পাঁচটি নাম। সেই তালিকা দেয়া হবে আদালতে। বিচারক জানাবেন সিদ্ধান্ত।

শিশুটির আর্থিক নিরাপত্তা, সুন্দর জীবন, আলোকিত ভবিষ্যৎ সবই নিশ্চিত করতে চায় এই বোর্ড।তাই তারা জুড়ে দিয়েছে আটটি শর্ত। এর মধ্যে শেষ শর্তে বলা হয়েছে, বোর্ড যে কোনো নতুন শর্ত আরোপ করতে পারবে।

যে ৮শর্তে  শিশুটির অভিভাবকত্ব পাওয়া যাবে:

১. শিশুটির নামে ৩০ হাজার টাকা স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করতে হবে;

২. পৌরসভার বাইরে হলে ৫০ শতক কৃষি জমি আর ভেতরে মধ্যে হলে ১০ শতক জমি লিখে দিতে হবে;

৩. কমপক্ষে অনার্স পর্যন্ত পড়াশোনা করাতে হবে;

৪. সব ধরনের চিকিৎসা সেবা দিতে হবে;

৫. সব ধরনের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে;

৬. যিনি দত্তক নেবেন তিনি আর কাউকে দত্তক নিতে পারবেন না;

৭. স্বামী ও স্ত্রী মিলে তার ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে হবে;

এবং

৮. শিশু কল্যাণ বোর্ড যে কোন সময় শর্ত আরোপ করতে পারবে।

প্রসংঙ্গত: গত রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা কালীগঞ্জ উপজেলার কাঁকশিয়ালী নদীর তীরে গোলখালী শ্মশানের পাশে গাছে ঝুলছিল একটি ব্যাগ। কান্নার শব্দ শুনে ব্যাগটি নামিয়ে আনে স্থানীয়রা।

ভেতরে নবজাতক দেখে পুলিশের সহায়তায় শিশুটিকে ভর্তি করা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ছেলে শিশুর নাম রাখা হয় মহারাজ।

অনলাইন সংবাদ পত্রের কল্যাণে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তে। মঙ্গলবার সকাল ১০ টা পর্যন্ত শিশুটিরে অভিভাবকত্ব পেতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, স্কুল শিক্ষক, চিকিৎসক, পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২৯টি আবেদন জমা পড়ে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক রাসেল তার সম্মেলন কক্ষে বৈঠক করে গঠন করেন পাঁচ সদস্যের ‘শিশুকল্যাণ বোর্ড’।

ইউএনওর সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন। অন্যরা হলেন: উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অর্ণা চক্রবর্তী, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সামছুন্নাহার ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *