সিএনএস ডেস্ক:

ব্যবসায়ী ট্রাম্পের গায়ে অনেক ময়লা। প্রেসিডেন্ট হয়ে চেয়েছিলেন ময়লা সাফ করতে। কিন্তু কোথায় যেন গোলমাল হয়ে গেছে।রাজনীতিবিদ হলে হয়তো এমন ভুল করতেন না।আমেরিকাকে উল্টো পথে নিয়ে যাওয়াই যেন তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল।গণতন্ত্রের নামাবলী গায়ে দিয়ে ট্রাম্প একনায়ক হতে চেয়েছিলেন।

তিনি জানতেন ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে হলে চেনা পথেই যেতে হবে। বাকস্বাধীনতা হরণ করাই একনায়কদের কাজ। এবার জিতলে হয়তো সে পথেই পা বাড়াতেন। এটা এক ভয়ঙ্কর পথ। একবার পা বাড়ালে কেউ আর ফিরতে পারে না। আলাদা মজাই নাকি এপথে।  এজন্য দরকার চরম নৈরাজ্য। এখনও সেপথে হাঁটছেন। মার্কিন জনগণ তার চালাকি ধরতে পেরেছে। তাই তারা তার খায়েশ পূরণ করতে বাদ সেধেছেন। রাজপথে নয়, ব্যালটে।

মানুষের ক্ষমতা ছায়ার মতো একটা সময় চলে যাবেই। কারো ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। হোক সেটা বৈধ অথবা অবৈধ। তবুও মানুষ ক্ষমতাকে আঁকড়ে থাকতে চান যে কোন পন্থায়। ডোনাল্ড ট্রাম্প তেমনটাই চেয়েছিলেন। মানবাধিকার তার কাছে তুচ্ছ। তার কাছে গণতন্ত্র নয়, ক্ষমতা বড়। উগ্র জাতীয়তাবাদ পুঁজি করে পৃথিবীর অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশ আমেরিকাকে দ্বিধাবিভক্ত করতেও পিছ পা হন নি দেশটির সাবেক এ প্রেসিডেন্ট।

সবসময় উল্টোপথে হাঁটতে পছন্দ করেন ট্রাম্প। আর পছন্দ না হলে তিনি পুরো বিগড়ে যান। যতো রাগ আর ক্ষোভ তার মিডিয়ার ওপর। মার্কিন মিডিয়া তাকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি গত চার বছর । মিডিয়া যে কতোটা শক্তিশালী তা নিশ্চয়ই হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন ট্রাম্প। তার পছন্দের মিডিয়াও যখন সত্য বলতে শুরু করেছে তখন তিনি বুজতে পেরেছেন আসলে মিডিয়া কখনো কিনে রাখা যায়না।

ফক্স নিউজ এক সময় ছিল তার খুব পছন্দের। এখন তাদেরকে ফেলে দিয়েছেন শত্রুর তালিকায়। যেকোনো বিবেচনায় অনেক ভোট পেয়েছেন ট্রাম্প। কিন্তু তিনি ভোটারদের প্রতি সম্মান দেখাননি। তাকে কারা যেন বুদ্ধি দিয়েছে, জন এডামসের পথ ধরতে। ১৮০০ সনে বিজয়ী হয়েছিলেন টমাস জেফারসন। ভুয়া অভিযোগ তুলে এডামস ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন না বলে ঘোষণা দেন। জেফারসনের শপথ অনুষ্ঠান বয়কট করে নৈরাজ্য তৈরির চেষ্টা চালান।

দুর্ভাগ্য তিনি জানতেন না, তার ভাগ্যে কী ঘটতে যাচ্ছে। হঠাৎ করেই হোয়াইট হাউসের কর্মচারীরা তার রুমে ঢুকে যাবতীয় মালামাল সরিয়ে ফেললেন। অসহায়ের মতো তাকিয়ে দেখা ছাড়া তার আর কিছুই করার ছিল না। অবশেষে হার মানলেন। হোয়াইট হাউসের মায়া ছেড়ে অপমান মাথায় নিয়ে বিদায় নিলেন। বলে রাখা ভালো, তিনিই ছিলেন হোয়াইট হাউসের প্রথম বাসিন্দা।

ট্রাম্প এটা জেনেও একগুঁয়েমি করছেন। কিন্তু কেন? মেলানিয়া ট্রাম্পও বলে দিয়েছেন- ‘এনাফ ইজ এনাফ’। চলো এবার আমরা বাড়ি যাই। নিউ ইয়র্ক কিংবা ফ্লোরিডায়। বা অন্য কোথাও।
দুনিয়া মেনে নিলেও ট্রাম্প পরাজয় স্বীকার করতে নারাজ।

দেশে দেশে একনায়করা তাই করে। জনরায় তাদের কাছে নস্যি। ক্ষমতা যে এতো ক্ষণস্থায়ী তারা তা মানতে চান না। ট্রাম্প নিশ্চয়ই খবরটি দেখেছেন। বিলেতের মাদাম তুসো থেকে কীভাবে হাওয়া হয়ে গেলেন। শনিবার যখন মার্কিন ও বৃটিশ মিডিয়া খবর দিলো রঙ্গমঞ্চে ট্রাম্প এখন অতীত। বাইডেন যুগের সূচনা হতে চলেছে। তখনই মাদাম তুসো কর্তৃপক্ষ ট্রাম্পকে ছেঁটে ফেললেন। গায়ে নীল রঙের স্যুট হাওয়া হয়ে গেল। চকচকে টাইও। ট্রাম্পকে রাখা হলো গলফার সাজিয়ে। চেক ট্রাউজার আর বেগুনি রঙের জাম্পার ও লাল টুপিতে ট্রাম্পকে ভালোই লাগছিল।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *