নিজস্ব প্রতিবেদক:
মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা।

উৎসবকে ঘিরে পরিবারের সাথে ঈদ করতে ইট পাথরের শহর ছেড়ে সবাই বাড়ির পথে। তবে এবার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা হবে না অনেকেরই। করোনায় চাকরি হারিয়ে পরিবার নিয়ে একেবারেই ছাড়ছেন স্বপ্ন গড়ার এই জাদুর শহর। খুশির ঈদে এই যেন বিষাদের যাত্রা।

সর্বনাশা করোনাভাইরাসের কবলে পড়ে অনেক শ্রমিক কর্মচারীরা ছাঁটাইয়ের শিকার হয়েছেন। সেখান থেকেও অনেকেরই ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা। তবে সব চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে উৎসবের আনন্দ যাত্রায় বুক ভরা হতাশা নিয়ে শহর ছাড়তে হচ্ছে এসব শ্রমজীবীদের।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে সাভার আশুলিয়ার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায় বাসে নয়, বরং পিকাপ ভ্যানে করে পুরো সংসার নিয়ে গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই।

এমনই একজন আছিরন বেওয়া। পিকআপে সংসারের জিনিসপত্র বোঝাই করে পরিবারসহ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন তিনি। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে গার্মেন্টসে কাজ করি। আমার স্বামী ঝালমুড়ি বিক্রি করতো। করোনার জন্য কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আর আমারও চাকরি চলে যায়। কোনো উপায় না পেয়ে একবারেই গ্রামে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

চাকরি হারা বাড়ি ফেরা আরেক পোশাক শ্রমিক সাকিলা-আনোয়ার দম্পতি। গ্রামে ভিটেমাটি কিছু নাই। সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পাড়ি জমিয়েছিলেন আশুলিয়ায়। চাকরিও পেয়েছিলেন। কিন্তু করোনাভাইরাস আর ভাল থাকতে দিল না। চাকরিটাই চলে গেলো। তিনি বলেন, ‘আমার চাকরির বয়স ৬ মাস তাই নাকি আমাকে ছাঁটাই করেছে। ছাঁটাইয়ের সময় কারখানা কর্তৃপক্ষ কিছু টাকা দিয়েছিল। সেটা দিয়ে বাসা ভাড়া পরিশোধ করে বাড়ি যাচ্ছি।

অপর এক শ্রমিক মিজানুর বলেন, চাকরি চলে যাওয়ার পর একমাস অনেক চাকরি খুঁজেছি, কেউ চাকরি দিল না। পরে ফুটপাতে হকারের ব্যবসা শুরু করি। এখানে তো বাচ্চার দুধ কেনার টাকাও নেই। এখন বাড়িতে গিয়ে দিন মজুরির কাজ করবো। এছাড়া কোনো উপায় দেখছি না।

আশুলিয়ার পল্লিবিদ্যুৎ এলাকার আফসানা গার্মেন্টসের মালিক আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমরা সাব কন্ট্রাক্টে কাজ করাতাম। কোনো কাজ না থাকায় ৩৮ জন শ্রমিককে পাওনাদি পরিশোধ করে অন্য কোথাও চাকরি নেওয়ার অনুরোধ করেছি। কাজ অভাবে কারখানা বন্ধের পথে। কাজ না থাকলে তো শ্রমিকদের বেতন দিতে পারবো না। তাই তাদের চলে যেতে বলেছি।

এ ব্যাপারে গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খাইরুল মামুনিন্টু বলেন, এ পর্যন্ত শুধু সাভার আশুলিয়ায় চাকরি হারিয়েছে প্রায় ১৫ হাজার শ্রমিক। তাদের কোনো কর্মসংস্থানের না হওয়ায় আগে থেকেই বাসা ছেড়ে দিয়ে গ্রামে গেছেন অনেকেই।

যারা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন তারাও ব্যর্থ হয়ে ঈদ যাত্রায় একেবারেই ফিরেছেন গ্রামে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *