নিজস্ব প্রতিবেদক:
বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি যুক্তরাষ্ট্রে পলাতক রাশেদ চৌধুরীকে চলমান মুজিববর্ষেই দেশে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ মিলনায়তনে ‘জনতার প্রত্যাশা’ নামের সংগঠন আয়োজিত এক আলোচনাসভায় এ কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিথ্যা তথ্য দিয়ে ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্র্যান্ট হয়েছেন খুনি রাশেদ চৌধুরী। আমরা সেসব তথ্য যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছি। আশা করছি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষেই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকর করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিদেশে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত পাঁচজন খুনি আছেন। যাদের মধ্যে দুইজনের তথ্য আমাদের কাছে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি কানাডায় পলাতক আরো একজনের (নূর আলী) তথ্যও আমাদের কাছে আছে। তাকেও ফিরিয়ে আনার জন্য আলোচনা করছি। বাকি তিনজনের বিষয়ে আমাদের কাছে ভাসাভাসা তথ্য রয়েছে।’

বিদেশে পলাতক খুনিদের ফিরিয়ে আনতে জোড় চেষ্টা চলছে এবং এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান আব্দুল মোমেন।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম এ করিমের সভাপতিত্বে ‘দেশবাসী বিদেশে পলাতক বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে এনে ফাঁসি কার্যকর দেখতে চায়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল হাই, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সফিকুল বাহার মজুমদার, কৃষক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, স্বাধীনতা পরিষদের সভাপতি জিন্নাত আলী খান জিন্নাহ প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার দায়ে মত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাশেদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। পরে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধ করা হয়। আত্মস্বীকৃত এই ১২ খুনিকে বিদেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন মিশনে চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন করা হয়।

১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার পর ১২ নভেম্বর ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করার পথ সুগম করে। তারপর বিচারের আয়োজন করা হয়। ২০১০ সালের জানুয়ারিতে পাঁচজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

যেসব খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে তারা হল- সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারুক রহমান, মহিউদ্দিন আহমেদ (আর্টিলারি), শাহরিয়ার রশিদ খান এবং একেএম মহিউদ্দিন আহম্মেদ (ল্যান্সার) ও সাবেক মেজর বজলুল হুদা। ঢাকা ও ব্যাংককের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তি স্বাক্ষরের পর বজলুল হুদাকে থাইল্যান্ড থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

তবে বন্দি বিনিময় চুক্তি না থাকলেও সেনা সমর্থিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বরখাস্তকৃত লেফটেন্যান্ট কর্নেল একেএম মহিউদ্দিন আহমেদকে যুক্তরাষ্ট্র ফিরিয়ে দেয়।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ছয়জনের রায় কার্যকর হলেও রাশেদ চৌধুরীসহ বিদেশে পলাতক অন্যদের দণ্ড কার্যকর হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *