নিজস্ব প্রতিবেদক:
বন্যার পানিতে সব হারিয়েও বেঁচে আছেন বানভাসি মানুষ। তবে সেই বেঁচে থাকাটাও হয়ে উঠছে না মরে বেঁচে থাকবার মতোই। কারণ বানের পানিতে জমে থাকা পানিবাহিত রোগ আর স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেহাল দশা। নেই চিকিৎসক, নেই চিকিৎসা।

উজানের পাহাড়ি ঢল আর ভারি বৃষ্টিপাতে বন্যায় ভাসছে দেশ। এক মাসের বেশি সময় ধরে পানিবন্দী থাকায় দুর্ভোগে নদী পাড়ের লাখ লাখ মানুষ। যাদের তীব্র খাবার সংকটের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। তলিয়ে গেছে মাছ ও জমির ফসল। কিছু এলাকায় ত্রাণ দেয়া হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ দুর্গতদের।

উত্তরের জেলা গাইবান্ধায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে খোলাহাটি মালিবাড়ি গিদারী, ঘাগোয়া, মহিমাগঞ্জ ও নাকাইসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন। এসব এলাকার অধিকাংশ ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। ভেসে গেছে মাছের খামার। এমন অবস্থায় ত্রাণ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ বানভাসিরা।

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও যমুনা নদীর পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দী থাকায় দেখা দিয়েছে খাবার সংকট। ছড়িয়ে পড়ছে পানিবাহিত রোগ বালাই। স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বন্যা কবলিত এলাকায় ৫৯টি মেডিক্যাল টিম কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে, টাঙ্গাইলে যমুনাসহ সব নদীর পানি কমলেও জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলার ১১টি উপজেলার ৬৫২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সাড়ে ছয় লাখ মানুষ পানিবন্দী। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

শরিয়তপুরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙ্গন। জাজিরা উপজেলার পূর্ব নাওডোবার পৈলান মাদবরকান্দি এলাকায় গত ২দিনে ৫০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বসতভিটা হারিয়ে ভাঙন থেকে রক্ষায় শেষ সম্বলটুকু নিয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন অনেকে।

এদিকে, রাজধানীর পাশে গাজীপুরে তুরাগ ও বংশী নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কালিয়াকৈরে ১১২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সুত্রাপুর, শ্রীফলতলী ও ঢালজোড়া ইউনিয়নের গ্রামগুলো।

এসব স্থানে পানিতে তলিয়ে গেছে পাকা ও কাঁচা রাস্তা। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ। ৮টি আশ্রয় কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ১২৪টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। নলকূপ তলিয়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *