কোরবানির ঈদে স্বাস্থ্যঝুঁকি

সারা বছর মাংস খেলেও কোরবানির ঈদ এলে অনেকের মাংস খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। আর কোরবানির ঈদে মাংস বলতেই থাকে গরু, ছাগল, খাসি অথবা উটের মাংস। যেগুলো কিনা প্রাণীজ আমিষ বা রেডমিট। এই রেডমিটে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাট এবং কোলেস্টেরল থাকে যার কারণে অনেক ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশঙ্কা থাকে।

কোরবানির ঈদে অত্যধিক মাংস ভোজন স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ একটি ব্যাপার হলো, লাল মাংস অর্থাৎ গরু বা খাসির মাংস বেশি খেলে কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়ায় হৃদরোগের সমস্যা দেখা দেয়।

এমনকি এই উৎসবে ডায়াবেটিক এবং উচ্চ রক্তচাপ রোগীরাও খাবারের প্লেটে লাল মাংসের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া ঈদে মসলাদার এবং তৈলাক্ত খাবার বেশি রান্না করা হয়। অনেকে শাকসবজি ও সালাদ ছাড়াই শুধু মাংস খেতে পছন্দ করে। ফলে ডায়েটে পুষ্টির ভারসাম্য পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়। যার ফলে দেখা দেয় নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা।

ফল এবং সবজির তুলনায় মাংস হজম করা শক্ত। আর কোরবানির ঈদে মানুষজন কেবল মাংস খাওয়ার দিকে মনোনিবেশ করে। যা শরীরে রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বেশি পরিমাণে মাংস খাওয়ার ফলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও দেখা দেয়।

ঈদের মতো উৎসবে অনেকে কোনো রুটিন ছাড়াই খাবার গ্রহণ করে, যা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। রুটিন অনুযায়ী খাবার না খেলে তা হজম করতে পুরো শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। চর্বি সঠিকভাবে বিপাক করতে পারে না শরীরের প্রধান শক্তিঘর লিভার এবং এর ফলাফলে দেখা দেয় কোলেস্টেরলের উচ্চ মাত্রা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের অবনতি।

কোরবানির ঈদে মসলাদার খাবার মানুষজন বেশি রান্না করে থাকে। উচ্চ পরিমাণে লবণ এবং মসলা রক্তচাপের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এজন্য কম মসলা দিয়ে মাংস রান্না করা উচিত।

এই ঈদ উদযাপনে ব্যস্ত সময় পার করায় ব্যায়াম বা হাঁটার সময় থাকে না, যা বেশি পরিমাণে মাংস খাওয়ার পরে প্রয়োজনীয়। এ কারণে শরীরে রক্তচাপের মাত্রা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়। হাঁটতে বের হওয়াটা আপনার পাকস্থলিকে মাংস সঠিকভাবে হজম করতে সক্ষম করে এবং এটি হৃদরোগের বিপজ্জনক ঝুঁকি হ্রাস করে।

রান্নার তেল হিসেবে পশুর চর্বি ব্যবহার অস্বাস্থ্যকর। রান্নার তেল হিসেবে গরুর চর্বি ব্যবহার করা হলে তা শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রান্না করার জন্য উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করা উচিত।

সবকিছুর অতিরিক্ত স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। মাংসের সব খাবার খাওয়া উচিত নয়। এই উৎসবে আপনার ডায়েটে শাকসবজি এবং সালাদও রাখুন। আপনার প্লেটে কম তেল ও কম মসলায় রান্না করার খাবার যোগ করুন। সেদ্ধ মাংস জাতীয় খাবার বানানোর চেষ্টা করুন। মাংস খাওয়ার পরে গ্রিন টি পান করুন।

ডায়াবেটিস রোগী, উচ্চ রক্তচাপের রোগী, উচ্চ ইউরিক অ্যাসিড রোগীসহ অন্যান্য রোগীদের খুব কম পরিমাণে মাংস খাওয়া উচিত। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদের ছুটিতে মানুষজন অতিরিক্ত বিশ্রাম নেয় এবং এ সময় কেবল মাংসযুক্ত খাবার খাওয়াটা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।

স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে মাংস রান্না করে পরিমাণ বজায় রেখে খেলে যেকোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়িয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *