অনলাইন ডেস্ক:


দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের অপেক্ষা কেটেছে লিওনেল মেসির। কোপা আমেরিকা জয়ের সঙ্গে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা। কোপা আমেরিকার ‘টিম অব দ্য টুর্নামেন্টে’ যে তিনি থাকবেন, তা নিশ্চিত ছিল। তবে ফাইনালে গোল করে আর্জেন্টিনাকে জেতানো আনহেল দি মারিয়ার জায়গা হয়নি এবারের কোপা আমেরিকার সেরা একাদশে।

আর্জেন্টিনা থেকে সর্বোচ্চ চার খেলোয়াড় জায়গা পেয়েছেন সেরা দলে। ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ১-০ গোলে হার মানা ব্রাজিল থেকে নেয়া হয়েছে তিন খেলোয়াড়। পেরু, চিলি, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়া থেকে নেয়া হয়েছে একজন করে খেলোয়াড়। ৪-৩-৩ ফরমেশনে দক্ষিণ আমেরিকা ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের টেকনিক্যাল গ্রুপ এই সেরা দল বাছাই করেছে।

গোলপোস্টে আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজের জায়গা কেউ নিতে পারেননি। ৬ ম্যাচে মাত্র ২ গোল হজম করেছেন তিনি। ৪ ম্যাচে কোনো গোল হজম করেননি। ৮৫.৭ শতাংশ শট রুখেছেন অ্যাস্টন ভিলার এ গোলকিপার। সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে তাঁর বীরত্বেই ফাইনালে উঠে আসে আর্জেন্টিনা।

রক্ষণভাগে রাইটব্যাক পজিশনে জায়গা পেয়েছেন চিলির মরিসিও ইসলা। প্রতিপক্ষের অর্ধে ২৭টি পাস দিয়েছেন তিনি। অ্যাটাকিং থার্ডে ১৫.২টি পাস দেন তিনি, যা ডিফেন্ডারদের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। মাঝে দুই সেন্টারব্যাক হিসেবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে—আর্জেন্টিনার ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও ব্রাজিলের মার্কিনিওসকে। রোমেরো মাঠে থাকা অবস্থায় আর্জেন্টিনা কোনো গোল হজম করেনি। প্রতি ম্যাচে ৪.৭ বার বল রিকভারি করেছেন তিনি। ডিফেন্ডারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৪৪টি পাস দিয়েছেন মার্কিনিওস। প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৮ বার বল রিকভারি করেছেন বাতাসে। ইকুয়েডর লেফটব্যাক পারভিস এস্তুপিনান বাঁ প্রান্তে ম্যাচপ্রতি ৯.৬টি ক্রস দিয়েছেন, সুযোগ সৃষ্টি করেছেন ২.৪টি।

মধ্যমাঠে একদম মাঝে ব্রাজিলের রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডার কাসেমিরো। বাতাসে ৩৬ বার বল রিকভারি করেছেন তিনি। এবার কোপায় যা সর্বোচ্চ। প্রতি ম্যাচে ৮.৩ বার বল রিকভারি করেছেন। তাঁর ডান পাশে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল। আর্জেন্টিনা দলের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩২ বার বল রিকভারি করেছেন তিনি। সুযোগ তৈরি করেছেন ৬টি (গোলের)। ফাইনালে দি মারিয়ার করা গোলের উৎসও ছিলেন তিনি। বাঁয়ে পেরুর মিডফিল্ডার ইয়োশিমির ইয়োতুন। লেফট উইঙ্গার হিসেবে খেলতে পছন্দ করা ইয়োতুন ৬৩ বার বল রিকভারি করেছেন, যা এবার কোপায় সর্বোচ্চ। ৪২০টি পাস দিয়েছেন, এবার কোপায় যা সর্বোচ্চ।

আক্রমণভাগে সবার মাঝে নেইমার। প্রতি ম্যাচে ৩.৫টি করে গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন ব্রাজিল ফরোয়ার্ড। অ্যাটাকিং থার্ডে ২১.৬টি পাস দিয়েছেন। তাঁর ডানে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক মেসি। ৪ গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৫ গোল। এর মধ্যে ২৮টি শট নিয়ে ১১টি রাখতে পেরেছেন গোলপোস্টে। কলম্বিয়া ফরোয়ার্ড লুইস দিয়াজও ৪ গোল করেছেন। ৫টি সুযোগ সৃষ্টি করেছেন এবং ১০টি শট নিয়েছেন গোলপোস্টে। ব্রাজিলের বিপক্ষে বাইসাইকেল কিকে দর্শনীয় গোল করা দিয়াজ খেলবেন নেইমারের বাঁ প্রান্তে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *