নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুয়েতের আদালতে কারাদন্ডপ্রাপ্ত হয়ে দেশে পালিয়ে আসা এক বাংলাদেশী মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সোমবার নরসিংদীর মাধবদী এলাকা থেকে পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা আমীর হোসেন ওরফে সিরাজউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

সিআইডি সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত মীর হোসেন ওরফে সিরাজউদ্দিন নামে ওই মানবপাচারকারীসহ আরো ২ বাংলাদেশীকে কুয়েত আদালত ৩ বছর কারাদন্ড ও অর্থদন্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে।

কিন্তু তারা ৩জনই পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। বিদেশী একটি গোয়েন্দা সংস্থা এ বিষয়টি অবগত করে সিআইডিকে। তাদের দেয়া রিপোর্টের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমীর হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। সিআইড’র সিরিয়াস ক্রাইম,অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের একটি টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গত সোমবার নরসিংদীর মাধবদী থেকে গ্রেপ্তার করে।

বুধবার সিআইডি’র মিডিয়া উইং সূত্রে জানা যায়, বিদেশী গোয়েন্দা রিপোর্টে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিআ্ জানা যায় ৪ জন কুখ্যাত মানব পাচারকারী দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে মানবপাচার করে আসছিল। এ চক্রের সদস্যদের হাতে ৯০০ জনের বেশি ভিকটিম কুয়েতে পাচারের শিকার হয়।

জন প্রতি ৬ লক্ষাধিক টাকার বিনিময়ে তারা ভিকটিমদের কুয়েতে পাচার করে। উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে কুয়েতে পাচারের পর ভিকটিমদের উপর নেমে আসে দুর্বিষহ যন্ত্রণা। প্রতারিত বাংলাদেশি নাগরিকরা কুয়েতে কোনো কাজের সন্ধান পায়নি। তারা সেখানে খাদ্য ও বাসস্থান সংকটের ফলে উদ্ভাস্তু অবস্থায় কুয়েতের রাস্তায়- রাস্তায় ঘুরে বেড়াতো। চক্রটি কুয়েতে ভিকটিমদের বন্দী করে তাদের অসহায়ত্বের সুযোগ গ্রহণ করে।

তাছাড়া জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তারা ভিসা সংগ্রহ করতো।

এদের মধ্যে কয়েকজন ভিকটিম কুয়েতের সরকারি এজেন্সি ও জনশক্তি কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করলে তারা বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। কুয়েত এজেন্সি তদন্তে চক্রটির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পায় এবং অভিযোগটির নিরিখে কুয়েতের আদালতে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করে।

পরবর্তীতে এ চক্রের ৪ সদস্যের (১ জন কুয়েতি ও ৩ জন বাংলাদেশি) বিরুদ্ধে কুয়েতের আদালত অভিযোগ আমলে নেয়। ইতিমধ্যে আদালত ৩ বাংলাদেশীর বিরুদ্ধে ৩ বছর কারাদন্ড ও অর্থদন্ড সহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়। এ চক্রের অন্যতম সদস্য জনৈক কুয়েতি নাগরিক ৬ বছরের সাজা প্রাপ্ত হয়ে কুয়েতে কারা ভোগ করলেও সম্পৃক্ত ৩ বাংলাদেশী মানব পাচারকারী যে কোন উপায়ে দেশে পালিয়ে আসে।

পালিয়ে আসা চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের জন্য সিআইডির প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে বলে জানায় সিআইডি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *