রাফসান জানি:

মদিনা আশিক টাওয়ার। ২১-৩০ চক সার্কুলার রোড। ভবনের ১৬ তলার ছাদে একটি কক্ষ। সেখানে মজুদ হাতকড়া, ছুরি, ওয়াকিটকি, হকিস্টিক, রশি, গামছা, দূরবীণ।

সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম এখানে বসতেন। র‌্যাব বলছে, এটি তার ‘টর্চার সেল’।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম বলেন, ‘আমরা অভিযান চলাকালে এই কক্ষের সন্ধান পেয়েছি। কক্ষটি যে ধরনের সরঞ্জাম পাওয়া গেছে, আমাদের ধারণা এখানে লোকজনকে এনে নির্যাতন করা হতো।’

অন্য এক র‌্যাব সদস্য বলেন, ‘এখানে যে ধরনের গামছা দেখা গেছে, সেগুলো হাজী সেলিমের ছেলে বা তার সঙ্গীদের ব্যবহার করার কথা না। যে ধরনের রশি দেখা গেছে, সেগুলো হাত পা বাঁধার জন্য হয়ত ব্যবহার করা হতো।’

বেশ বড় আকারের এই কক্ষে পাওয়া গেছে একটি হাড়। এটি মানুষের কি না, সেটি নিশ্চিত হতে ফরেনসিক পরীক্ষার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

কক্ষটিতে ইয়াবা সেবনের উপকরণও পাওয়া যায়। র‌্যাব জানিয়েছে, ৪০০ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

ভবনের ১৫ তলায় মদিনা ডেভেলপারের অফিস। ছাদের কক্ষের পাশে ব্যাডমিন্টন কোর্ট। ভবনের নিচে মার্কেট।

মার্কেটের একজন কর্মচারী জানান, ছাদে ইরফান ব্যাডমিন্টন খেলতেন, ঘুড়ি উড়াতেন। আর কক্ষটিতে বিশ্রাম নিতেন বলে জানি।

হাজী সেলিমের বাড়িতে অভিযান
হাজী সেলিমের বাড়িতে তার ছেলের কক্ষ থেকে উদ্ধার করা পিস্তল

এই ‘টর্চার সেলের’ বিষয়ে তাৎক্ষণিক খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে ওই এলাকায় হাজী সেলিম পরিবারের প্রভাব ব্যাপক। তিনি এলাকায় সালিশ-বিচার করতেন।

তার মতোই ছেলে ইরফানও বেশ প্রভাবশালী। সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর হওয়ার আগে থেকেই এলাকায় তার কথার বাইরে যাওয়া কঠিন।

রোববার রাতে কলাবাগান এলাকায় নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে পেটানোর অভিযোগ উঠে ইরফানের বিরুদ্ধে। রাতে থানায় বসেও দুই পক্ষে বাদানুবাদ হয়। পরে হয় মামলা।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, মারধরের পাশাপাশি হাজী সেলিমের পুত্র ও তার সহযোগীরা বাদী ও তার স্ত্রীকে হত্যার ‍হুমকি দিয়েছেন।

আর র‌্যাব হাজী সেলিমের বাড়িতে ইরফানের কক্ষে অভিযান চালিয়ে অবৈধ অস্ত্র, মদ, ওয়াকিটকি উদ্ধার করে।

অবৈধ ওয়াকিটকি ও মদ রাখায় ভ্রাম্যমাণ আদালত সেলিমপুত্রকে ছয় মাস করে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র আইনে মামলা করার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান
ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদণ্ড দেয়ার পর হাজী সেলিমের ছেলেকে কেরানিগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়

 

এই ওয়াকিটকিগুলো সরকারি বাহিনী ব্যবহার করে। সেখানে পাওয়া যায় এমন এক ব্রিফকেস সেটি ব্যবহার করে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনী।

এগুলো ব্যক্তিগত পর্যায়ে আমদানি বা ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। অবৈধ পথে এগুলো আমদানি করা হয়েছিল বলে ধারণা করছে র‌্যাব।

অবৈধ ওয়াকিটকি ও মদ রাখার দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ইরফানকে ছয় মাস করে এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মামলা করার কথাও জানিয়েছে র‌্যাব।

গত ১০ ফেব্রুয়ারির ভোটে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন ইরফান।

স্থানীয় এক পান দোকানি তার দোকানের পাশে জায়গা দেখিয়ে বলেন, ‘কাইল এক গাড়ির ড্রাইভারকে গাড়ির থন নামায়া ইরফানে এছা তেছা মাইর দিছে!’

কী কারণে?

দোকানি বললেন, ‘এফরেনের (ইরফানের) গাড়ির আগে কিললাইগ্যা গেল, সাইড দিল না কে?

 

নিউজ বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *