নিজস্ব প্রতিবেদক:

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন,কালো টাকা সাদার নামে ঘুষের টাকা বৈধকরণ গ্রহণযোগ্য নয়।একে অপ্রদর্শিত আয় অর্থনীতির মূল ধারায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দেওয়া সুযোগের অসৎ ব্যবহার বলেও উল্লেখ করেন।

দুদকের ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে মত বিনিময়ের সময় ইকবাল মাহমুদ এ মন্তব্য করেন। গত রোববার রাতে দুদকের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করা হয়।

মতবিনিময়ে দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্রতিবেদনে দুর্নীতি প্রতিরোধে বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলিশ ক্যাডার থেকে নিয়োগে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করা হয়েছে। তারা মনে করেন, এটা হলে দুর্নীতি অর্ধেক কমে যাবে।

সরকারি চাকরির সকল পদোন্নতিতে পরীক্ষা নেওয়ারও সুপারিশ করেছে দুর্নীতি বিরোধী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি।

দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, মাঠ পর্যায় থেকে উচ্চ পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতি বিদ্যমান এতে কোন সন্দেহ নেই। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে সম্মিলিত প্রয়াস দরকার বলে মনে করেন তিনি।

দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে দুদকে মোট অভিযোগ আসে ২১,৩৭১টি, অনুসন্ধানের জন্য নেওয়া হয় ১,৭১০টি। একই বছরে মোট মামলা ২৬৩ দায়ের, চার্জশিট গঠন করা হয় ২৬৭টি এবং সাজার হার ছিল ৬৩ শতাংশ।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, গত বছর থেকে ২০১৯ সালে মামলা এবং চার্জশিটের পরিমাণ কিছুটা হলেও বৃদ্ধি পেয়েছে। মামলা এবং চার্জশিটের গুণগত মান নিশ্চিত করার কারণেই কমিশনের মামলায় সাজার হার ৬৩ শতাংশে উন্নীত। আমরা চাই কমিশনের মামলায় সাজার হার হবে শতভাগ। তবে আশার কথা, আমরা যতটা জেনেছি ২০২০ সালে কমিশনের মামলায় সাজার হার ৭৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

দুদক কমিশনার ড. মোঃ মোজাম্মেল হক খান বলেন, দুদক বিগত বছরগুলোতে মূলত প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতি প্রতিরোধ কৌশল পরিচালনা করছে। প্রশাসনিক কৌশলে দুর্নীতি প্রতিরোধ করাও সহজ।

দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল বলেন, ‘আমরা দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে মামলার অনুসন্ধান-তদন্তের নথি পর্যালোচনা করছি।’

মতবিনিময় সভা শেষে দুদক চেয়ারম্যান এবং দুই কমিশনার দুদক বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোটার্স এগেইনস্ট করাপশন (র‍্যাক) এর নতুন কমিটির সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন, দুদকের সচিব আনোয়ার হোসেন হাওলদার, র‍্যাকের সভাপতি মহিউদ্দীন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ফয়েজ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *