নিজস্ব প্রতিবেদক:

নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধরের পর গতকাল পুরান ঢাকার চকবাজার থানার দেবীদাস ঘাট লেনের ২৬ নম্বর হোল্ডিংয়ের ‘চাঁন সরদার দাদা বাড়ী’থেকে  র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে গেছেন সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম।

সোমবার মধ্যরাতে তাকে র‌্যাব হেফাজত থেকে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

র‌্যাব-৩’র অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল রকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ইরফানকে রাত দেড়টার পরে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

তাকে মদ্যপান ও ওয়াকিটকি ব্যবহার করার অপরাধে সাজা দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ দুপুরের মধ্যে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা করতে যাচ্ছে র‌্যাব।

ঢাকার জেলার মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ইরফান কারাগারে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকবেন।

করোনাভাইরাস মহামারীকালে কারাগারের নিয়ম অনুযায়ী যে কোনো নতুন বন্দিকে একটি সেলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।

ইরফান ও তার সহযোগীদের হাতে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খান মারধরের শিকার হওয়ার জের ধরে সোমবার বেলা সাড়ে ১২টার থেকে রাত সাড়ে ৮ ঘণ্টা হাজী সেলিমের চকবাজারের ২৬ দেবীদাস ঘাট লেনে ‘চাঁন সরদার দাদা বাড়ি’-তে অভিযান চালায় র‌্যাব।

সেখান থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি পিস্তল ও আরেকটি একনলা বন্দুক), উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ৩৮টি ওয়াকিটকি, ৫টি ভিপিএস সেট, একটি দুরবিন, শক্তিশালী ইলেকট্রিক ডিভাইস, ৪০০ পিস ইয়াবা, সাত বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার, একটি হ্যান্ডকাফ (হাতকড়া), একটি ড্রোন, একটি ব্রিফকেসসহ অন্যান্য অবৈধ জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়।

এর আগে রোববার রাতে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় সোমবার সকালে ধানমণ্ডি থানায় ইরফানসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়।

আর রোববার রাতেই পুলিশ আটক করে হাজী সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমানকে। তাকে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

ইরফান পুরান ঢাকার সোয়ারিঘাট, মিটফোর্ড রোড ও আশপাশের এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *