অনলাইন ডেস্ক :

বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন এলাকায় লকডাউন, বিধিনিষেধসহ নানা উদ্যোগ নিয়েও যেন রাশ টানা যাচ্ছে না এ ভাইরাসের। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জেলায় করোনা ও উপসর্গে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এরমধ্যে খুলনা বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় ৩২ জন মারা গেছে। এ সময়ে বিভাগে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৯০৩ জন। বুধবার দুপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক রাশেদা সুলতানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের মধ্যে খুলনায় সর্বোচ্চ ৮ জন, ঝিনাইদহে ৭ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৫ জন, কুষ্টিয়ায় ৪ জন, যশোরে ১ জন, বাগেরহাটে ৩ জন, সাতক্ষীরায় ১ জন, নড়াইলে ১ জন এবং মেহেরপুরে ২ জন মারা গেছে।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ডা. সুভাষ রঞ্জন, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গাজী মিজান ও খুলনা আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ডা. রাশেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

খুমেকে যাদের মৃত্যু হয়, তারা হলেন, বাগেরহাটের আফজাল শেখ (৬২), নড়াইলের নির্মল কান্তি সাহা (৭৯), যশোরের ভানু বেগম (৬০), খুলনার মো. সোহরাব শেখ (৬৮), সামসুর আলম (৫৮) ও আনোয়ারা (৫৮)।

গাজী মেডিকেলে মৃতরা হলেন, খুলনার মনিরুল ইসলাম (৬২), জালাল আহমেদ (৬৫), শামসুল হক (৪৫), মাহবুবুর রহমান (৯৫) ও যশোরের জাকির হোসেন (২৯)।

এছাড়া আড়াইশ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে খুলনার হোসনে আরা (৬০) মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭৭১ জন, আক্রান্ত হয়েছেন ৩০৫ জন। এ জেলায় আক্রান্তের হার ৩৯ শতাংশ।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনা ইউনিটে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ১৮ দিন আগে ৪ জুন সর্বোচ্চ ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল হাসপাতালটিতে। এছাড়া রামেক হাসপাতালে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ডর এটি।

মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে তারা মারা যান।

এর আগের ২৪ ঘণ্টাতেও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আর সর্বশেষ গত ৪ জুন ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ১১ জুন থেকে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ থেকে ১৩ জনের মধ্যে ছিল। শুধু ১২ জুন মৃত্যু হয়েছিল চারজনের। ১৯ দিন পর একদিনে ফের সর্বোচ্চ ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।

রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, মৃত ১৬ জনের মধ্যে আটজনেরই বাড়ি রাজশাহী। অন্য আটজনের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনজন, নাটোরের দুইজন, নওগাঁর দুইজন ও ঝিনাইদহের একজন রোগী ছিলেন। এদের মধ্যে রাজশাহীর পাঁচজন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরের একজন করে রোগী করোনা পজিটিভ ছিল।

রাজশাহীর আরও তিনজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দুইজন, নাটোরের একজন ও ঝিনাইদহের একজন রোগী মারা গেছেন করোনার উপসর্গ নিয়ে। এছাড়া নওগাঁর একজনের করোনা নেগেটিভ এলেও তিনি উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এ নিয়ে চলতি মাসে রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মোট ২৩৭ জনের মৃত্যু হলো।

হাসপাতাল পরিচালক শামীম ইয়াজদানী আরও জানান, গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬০ জন। বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪১০ জন। আগের দিন ভর্তি ছিলেন ৩৯৩ জন। হাসপাতালে করোনা ডেডিকেটেড শয্যার সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৫৭টি করা হয়েছে।

এদিকে বগুড়া প্রতিনিধি জানান, জেলায় ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে আরো ৬২জন করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়েছেন ২৭জন।

এ নিয়ে জেলায় মোট মারা গেলেন ৩৫৭ জন। আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ হাজার ৫৪জন এবং সুস্থ হয়েছে ১২ হাজার ২৭৩জন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৪২৪ জন।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, বগুড়া সদরের পান্না (৫৫) ও খালিদ (৫২), শেরপুরের জয় খান (৫৫) ও নওগাঁ জেলার আব্দুর রাজ্জাক।

এদের মধ্যে পান্না ও খালিদ শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল এবং জয় ও আব্দুর রাজ্জাক মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

ডেপুটি সিভিল সার্জন জানান, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৮২ নমুনার ফলাফলে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ২৮২টি নমুনায় ৪৩ জনের, জিন এক্সপার্ট মেশিনে ১৮ নমুনায় ৭ জনের এবং এন্টিজেন পরীক্ষায় ৬৭ নমুনায় ৭জনের পজিটিভ এসেছে।

এছাড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে ১৫ নমুনায় ৫ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। আক্রান্তের হার ১৬ দশমিক ২শতাংশ। নতুন আক্রান্ত ৬২জনের মধ্যে সদরের ৪৭জন, আদমদীঘিতে ৭জন, ধুনটে ৫জন, নন্দীগ্রাম, গাবতলী ও শাজাহানপুরে একজন করে আক্রান্ত হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *