নিজস্ব প্রতিবেদক,সিলেট:

সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজ (এমসি) ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণের ঘটনার দুই মাস পর আসামিদের ডিএনএ প্রতিবেদন পেয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ডিএনএ প্রতিবেদনে মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কয়েকজনের প্রমাণ মিলেছে। তবে কতজনের সংশ্লিষ্টতা আছে তা নির্দিষ্টভাবে এখনো জানানো হয়নি।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের জানান, ডিএনএ রিপোর্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার হাতে এসে পৌঁছেছে। এখন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দেয়া হবে।

আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, আলোচিত এ ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ডিএনএ প্রতিবেদন না আসায় চার্জশিট দেয়া সম্ভব হয়নি। ডিএনএ প্রতিবেদন হাতে আসায় দ্রুত সময়ের মধ্যেই চার্জশিট দেয়া হবে এবং বিস্তারিত তথ্য সবাইকে জানানো হবে।

এর আগে গত ১ অক্টোবর ও ৩ অক্টোবর দুই দিনে এ মামলায় গ্রেফতার ৮ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারের ডিএনএ ল্যাবে নমুনা সংগ্রহের পর পাঠানো হয় ঢাকার ল্যাবে। সেখান থেকে নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রথমে আদালতে এসে পৌঁছায়। পরবর্তীতে এ প্রতিবেদন রোববার তদন্ত কর্মকর্তার হাতে এসে পৌঁছেছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিকালে নববিবাহিত স্ত্রীকে প্রাইভেটকারে করে নিয়ে বেড়াতে বের হন নগরীর দক্ষিণ সুরমার জৈনপুর এলাকার এক যুবক। সন্ধ্যার দিকে টিলাগড়ে এমসি কলেজের মূল ফটকের সামনে তাদের ঘিরে ধরেন কয়েকজন তরুণ।

এক পর্যায়ে প্রাইভেটকারসহ তাদের বালুচরে এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যান তরুণরা। এরপর যুবককে আটকে রেখে তার স্ত্রীকে প্রাইভেটকারের মধ্যেই ধর্ষণ করেন ৫-৬ জন। সেই সাথে এ দম্পতিকে মারধর এবং তাদের কাছে থাকা টাকা ও অলংকার ছিনিয়ে নেয় ধর্ষকরা। আটকে রাখে প্রাইভেটকারও।

ছাত্রাবাস থেকে ছাড়া পেয়ে পুলিশকে ফোন করেন ভুক্তভোগী স্বামী। পরে পুলিশ গিয়ে ছাত্রাবাস থেকে প্রাইভেটকার উদ্ধার এবং নির্যাতিতা তরুণীকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করে।

এ ঘটনায় রাতেই ছয়জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করে শাহপরান থানায় মামলা দায়ের করেন নির্যাতিতার স্বামী।

মামলা দায়েরের তিন দিনের মধ্যে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে এজাহারভুক্ত আসামি সাইফুর, তারেক, রনি, অর্জুন, রবিউল ও মাসুম এবং সন্দেহভাজন আসামি রাজন ও আইনুদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কোনো পদে না থাকলেও গ্রেপ্তার হওয়া সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত বলে স্থানীয় ও কলেজ সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে, ধর্ষণের রাতে এমসি কলেজ ছাত্রবাসে সাইফুর রহমানের দখলে থাকা কক্ষে অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সাইফুরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে।

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ঘটনার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ থেকে ২৬ অক্টোবর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত চার আসামির ছাত্রত্ব ও সার্টিফিকেট বাতিল করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি তাদের স্থায়ীভাবে এমসি কলেজ থেকে বহিষ্কারও করা হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মাহফুজুর রহমান মাসুম ও রবিউল হাসান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *