জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান আহমেদ সেলিম বরখাস্ত হওয়ার পথে।গতকাল মাদক সেবন ও মজুদ এবং অবৈধ ওয়াকিটকি রাখা ও ব্যবহারের দায়ে সাংসদ হাজী সেলিমের দ্বিতীয় পুত্র ইরফান সেলিমকে ৬ মাস করে মোট ১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম তাকে এ সাজা দেন। এ সময় ইরফানের দেহরক্ষী মো. জাহিদুল ইসলামেও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন ২০০৯ (সংশোধিত ২০১১) অনুযায়ী এ ধরনের অপরাধের জন্য মেয়র বা কাউন্সিলররা বরখাস্ত হয়ে থাকেন। আইনটির ১২ ধারায় মেয়র ও কাউন্সিলরদের বরখাস্ত করার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপ-ধারা ১২ (১) বলা হয়েছে, যে কোন সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বা কাউন্সিলরের অপসারণের জন্য ধারা ১৩ এর অধীন কার্যক্রম আরম্ভ হয়েছে অথবা তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার অভিযোগ আদালত কর্তৃক গৃহীত হয়েছে। সে ক্ষেত্রে সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে ক্ষেত্রমত, মেয়র বা কোন কাউন্সিলরকে বরখাস্ত করতে পারবে।

এ আইনের ১৩ ধারায় মেয়র এবং কাউন্সিলরগণের অপসারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে। ১৩ এর উপধারা ১ এর খ-তে বলা হয়েছে, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হলে তিনি অপসারিত হবেন। ১৩ এর ঘ-তে বলা হয়েছে, অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন তাহলেও তিনি অপসারিত হবেন।

প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এ ধরনের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে স্থানীয় সরকার বিভাগকে অবহিত করতে হয়।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মেয়র বা কাউন্সিলররা আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হলে তিনি বরখাস্ত হন। তবে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে হলে সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন থেকে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে হয়।

গতকাল রাজধানীর পুরান ঢাকার দেবিদাস ঘাট লেন সংলগ্ন এরফানের বাড়িতে দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া র‌্যাবের অভিযান ৮তলা ভবনের প্রতিটি ফ্লোরেই তল্লাশি চালায়। সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি করে ইরফানের বাসা থেকে বেশ কিছু অবৈধ জিনিস উদ্ধার করতেও সক্ষম হয় র‌্যাব।

উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে,অবৈধ একটি আগ্নেয়াস্ত্র,বেশ কয়েক লিটার বিদেশি মদ, ৪০০ পিস ইয়াবা ও অসংখ বিয়ারের ক্যান।

এছাড়াও অবৈধ ওয়াকিটকি ও হাতকড়াসহ বেআইনি অনেক জিনিসপত্র মিলে ইরফানের কাছ থেকে।

উল্লেখ্য, ২৫ অক্টোবর রাতে ঢাকা-৭ আসনের এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ‘সংসদ সদস্য’ লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করা হয়।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ভোরে ভুক্তভোগী নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিম নিজেই বাদী হয়ে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন। মামলায় সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম (৩৭), তার দেহরক্ষী মোহাম্মদ জাহিদ (৩৫), হাজী সেলিমের মদীনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু (৪৫), গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ (৩০) অজ্ঞাতপরিচয়ের দু-তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় আরো বলা হয়, ইরফানের গাড়ি ওয়াসিমকে ধাক্কা মারার পর নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিম সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি থামান এবং গাড়ির সামনে দাঁড়ান। নিজের পরিচয় দেন। এরপরই গাড়ি থেকে কয়েকজন বের হয়ে ওয়াসিমকে কিলঘুষি মারেন এবং তার স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা মারধর করার ফলে এক পর্যায়ে জনতার আক্রোশে পড়ে ওয়াসিমকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *