নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:

শুক্রবার (১৮ জুন) দুপুর ২টায় রংপুর নগরীর পায়রা চত্বর এলাকার সেন্ট্রাল রোডের এক বাসায় তিনি অবস্থান করছিলেন।

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতায়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রশিদ এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

তবে তিনি কোথা থেকে কিভাবে এসেছেন এই বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি৷

বর্তমানে তিনি তার শ্বশুরবাড়ি মাস্টারপাড়ায় আছেন।

 

প্রসঙ্গত: গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২ টা ৩৭ মিনিটের দিকে গাবতলী ও মিরপুরের মাঝামাঝি স্থানে থেকে নিখোঁজ হন ইসলামি বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান, সফরসঙ্গী মোহাম্মদ আবদুল মুহিত আনসারী, ফিরোজ আলম এবং গাড়িচালক আমির উদ্দিন মো. ফয়েজ। এ ঘটনায় ঢাকায় দারুস সালাম থানায় তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার জিডি কিংবা মামলা দিতে গেলে তা গ্রহণ হয়নি। পরে রংপুর কোতোয়ালি থানায় আদনানের মা আজেদা বেগম এবং আমির উদ্দিনের ছোট ভাই ফয়সাল পৃথক দুটি জিডি করেন। গত ১৪ জুন রংপুরের জিডির সূত্র ধরে রাজধানীর পল্লবী থানায় সাবিকুন্নাহারের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়। এরইমধ্যে সাবিকুন্নাহার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, র‍্যাব হেডকোয়ার্টারে দেখা করে আদনানসহ নিখোঁজদের সন্ধানের জন্য লিখিত আবেদন করেছেন। করেছেন সাংবাদিক সম্মেলন। এখন পর্যন্ত তার সন্ধান জানাতে পারেনি পুলিশ।

 

এদিকে, আবু ত্ব-হা আদনানের সন্ধানের দাবিতে জাতীয় সংসদে আলোচনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়। তার সন্ধান চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

 

আবু ত্ব-হা আদনান রংপুর লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০০৬ সালে এসএসসি, রংপুর সরকারি কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি এবং কারমাইকেল কলেজ থেকে দর্শন বিভাগের অনার্স ও মাস্টার্স পাস করেন। আরবি শেখেন বাড়ির পাশের আল জামিয়া আল সালাফিয়া মাদ্রাসায়। ২০১৮ সালে চ্যানেল নাইনের আলোকিত জ্ঞানী অনুষ্ঠানে সারা দেশের মধ্যে রানার্সআপ হয়েছিলেন তিনি। ওই অনুষ্ঠানের পক্ষ থেকে তিনি ওমরা পালন করে আসেন। এরপর তিনি ইউটিউবে একটি চ্যানেল খুলে ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেয়া শুরু করেন। ওই ইউটিউব চ্যানেলে তিনি কোরআন শিক্ষার আসর করেছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন মসজিদে তিনি খুতবা এবং ইসলামি অনুষ্ঠানে বক্তা হিসেবে বক্তব্য রেখে সেগুলো ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করতেন। ইন্টারনেটভিত্তিক তার বিপুল পরিমাণ ফ্যান-ফলোয়ার্স তৈরি হয়েছিল।

 

রংপুর মহানগরীর পায়রা চত্বর সেন্ট্রাল রোডের হাজী লেনের মামার বাড়িতে মাসহ থাকতেন তিনি। আড়াই বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করে সংসার চালাতেন তিনি। তার প্রথম স্ত্রী আবিদা নুরের তিন বছর বয়সি ছেলে এবং দেড় মাস বয়সী কন্যা সন্তান আছে। তিন মাস আগে তিনি ঢাকার মিরপুরে সাবিকুন্নাহার নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *