অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশের জনগণের গলগন্ড রোগসহ আয়োডিনের অভাবজনিত নানাবিধ রোগ বিবেচনায় লবণে আয়োডিন মিশ্রণ সংক্রান্ত আয়োডিন অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন-১৯৮৯ প্রণয়ন করা হয়েছিল। ওই সময়ে প্রণীত আইনে আয়োডিনের ব্যবহার সংক্রান্ত বিধিবিধান ছিলো। দেশের আয়োডিনযুক্ত লবণ খাতের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান আইনটি প্রয়োজনীয় সংশোধন করে যুগোপযোগীর উদ্যোগ নেয় সরকার। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতে জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভায় ‘আয়োডিন যুক্ত লবণ আইন-২০২০’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন হয়। পরে আইনটি চুড়ান্ত করা হয়।

মৌসুমের বাইরে লবণ চাষিদের বিকল্প পেশার বা সংস্থানের ব্যবস্থা থাকবে। এমন বিধান রেখে আয়োডিনযুক্ত লবন আইন, ২০২০ চুড়ান্ত করেছে সরকার।

নিবন্ধন না করে কেউ কোনো প্রকার লবণ আমদানি, গুদামজাত, ভোক্তাপর্যায়ে পাইকারি সরবরাহ, প্রত্রিক্রয়াকরণ, পরিশোধন বা আয়োডিনযুক্তকরণ কারখানা পরিচালনা করলে ৫ বছরের কারাদন্ড অথবা ২০ লাখ টাকা অর্থদন্ডে অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।

লবণে পর্যাপ্ত পরিমানে আয়োডিন যুক্ত করা এবং দেশের লবণের বাজার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বুধবার  ‘আয়োডিনযুক্ত লবণ আইন, ২০২০’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বুধবার মন্ত্রিসভার সাপ্তাহিক বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন এবং মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরা সচিবালয় থেকে সংযুক্ত ছিলেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সরকার ১৪ সস্যের একটি জাতীয় লবণ কমিটি করবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাতীয় লবণ কমিটির সভাপতি হবেন। তার নেতৃত্বে কমিটি লবণ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিশোধন, আমদানি, গুদামজাত, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ, আয়োডিনের গুণগত মান নিশ্চিত করা, কারখানায় আয়োডিন সরবরাহ করা, লবণের আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিকভাবে লবণ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে তাদের সুপারিশ তুলে ধরবে।

বৈঠকে ‘রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবে রূপায়ণ: বাংলাদেশর প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১’ সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুসারে, বাংলাদেশ ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে বা উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতে চায়।

সে লক্ষ্য চারটি পরিকল্পনা- সুশাসন, গণতন্ত্রায়ন, বিকেন্দ্রীকরণ এবং দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্য পূরণের ওপর নজর দেয়া হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *