নিজস্ব প্রতিবেদক:


মুজিববর্ষে দেশের গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া উপহার গৃহ নির্মাণে অনিয়মের অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এ সংক্রান্ত তদন্ত দল।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, এখন সেসব প্রতিবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। চলছে ভেঙে যাওয়া ঘর পুনর্নির্মাণের কাজ।

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প সূত্র মতে, সারাদেশের ভূমিহীন-গৃহহীনদের জন্য ঘরনির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সম্পৃক্ততায় পাঁচটি তদন্ত দল গঠন করা হয়। খোদ প্রকল্প পরিচালকের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত দলগুলো ৯ জুলাই থেকে থেকে কাজ শুরু করে। অনিয়ম অনুসন্ধানে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় টানা পাঁচ দিন ঘুরে এসে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর পরিচালক মো. মাহবুব হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা প্রতিটি জেলা উপজেলা পরিদর্শন করেছি। যেখানে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে সেখানে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভেঙে যাওয়া ঘরগুলো দ্রুত মেরামত করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যার কাজ চলমান। এখন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কাজ চলছে। এর বাইরে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। কাজ শেষ হলে জানতে পারবেন।

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ঘর নির্মাণে অনিয়ম, দুর্নীতির খবর প্রথমে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। পরে টানা বৃষ্টি শুরু হলে কিছু স্থানের ঘর ধ্বসে পড়ে, আবার বড় বড় ফাঁটলও দেখা দেয় কোনো কোনো ঘরে। মাটিতে দেবে যেতেও দেখা গেছে। এ সংক্রান্ত ছবি গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে। শুরু হয় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতা নিয়ে নানা প্রশ্ন। এই সমালোচনার মুখেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রকল্প কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত হয় তদন্ত দল। পাঁচটি তদন্ত দল মাঠ পর্যায়ে গিয়ে শুধু ঘরই পরিদর্শন করেননি, তারা সুবিধাভোগীদের সঙ্গেও মতবিনিময় করছেন। ত্রুটি কী কী রয়েছে তা খতিয়ে দেখছেন।

সে অনুসন্ধানে কোথাও কোথাও দেখা গেছে, ঘরের মেঝেতে তিন স্তরের আস্তরণ দেওয়ার কথা থাকলে দেওয়া হয়েছে দুই স্তর। আবার জমি নির্বাচনও ঠিকমতো করা হয়নি। ঘর নির্মাণ হয়েছে তো সেখানে থাকার বা চলাচলের কোনো ব্যবস্থা নেই। এমন অসংখ্য অসঙ্গতি উঠে এসেছে।

মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনে যাওয়া একটি টিমে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, মুন্সিগঞ্জ, টাঙ্গাইলসহ বেশ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কয়েক স্থানে দেখা গেছে, ঘরের পাশ থেকে মাটি সরে গেছে কিংবা চলাচলের রাস্তা নেই। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে কিছু বালু ধুয়ে গেছে। তবে ওই এলাকায় ঘরে ফাঁটল ও দেবে যাওয়ার মতো দৃশ্য চোখে পড়েনি।

তিনি বলেন, প্রতিবেদন প্রকল্প পরিচালকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসকল ঘর ভেঙে গেছে তা মজবুত করে পুনঃনির্মাণ হচ্ছে। এ পর্যন্ত সারাদেশে ৩৬টি ঘর পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে আসা অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ এসেছে ৩৯ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। যারা মাঠ পর্যায়ে এই কাজের দায়িত্বে ছিলেন। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ৪ ও ৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারমূলক এই প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে মাঠ প্রশাসনের পাঁচ কর্মকর্তাকে ওএসডি করে আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এদের একজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। বাকি চারজনের বিরুদ্ধেও মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, জমিও নেই, ঘরও নেই কিংবা ঘর আছে তাতে মাথা গোঁজার অবস্থা নেই; দেশের এমন মানুষদের ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছে সরকার। এমন পৌনে ৯ লাখ পরিবারকে ঘর দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এরমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *