অনলাইন ডেস্ক:

সিঙ্গাপুরের ডিউক-এনএসএস মেডিক্যাল স্কুলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে বলা হয়, বিটাডিন অ্যান্টিসেপটিক কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ঠেকাতে কার্যকর। এ বিষয়ে একটি গবেষণা রিপোর্ট প্রথম প্রকাশিত হয় ‘ইনফেকশাস ডিজিজ অ্যান্ড থেরাপি’ জার্নালে।

করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড পুরো বিশ্ব। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। এখন পর্যন্ত করোনার কোনও কার্যকরী টিকা আবিষ্কার না হলেও এ নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। এমন পরিস্থিতিতে জানা গেল, কোভিড-১৯’র জন্য দায়ী SARS-CoV-2 ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিটাডিনই যথেষ্ট।

সামান্য পরিমাণ বিটাডিন পানিতে মিশিয়ে গার্গল করতে পারলে, মাত্র কয়েক সেকেন্ডে করোনাভাইরাসের হাত থেকে নিস্তার মিলতে পারে। কোভিড নিরাময় নিয়ে নয়া এক গবেষণায় এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

বিশেষ সমীক্ষা চালিয়ে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, বিটাডিনের মতো অ্যান্টিসেপটিক পণ্যগুলো ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ৯৯.৯% করোনভাইরাস ধ্বংস করতে পারে। বিটাডিনের এই পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে সলিউশন (১০% PVP-I), স্কিন ক্লিনজার (৭.৫% PVP-I), গার্গেল এবং মাউথওয়াশ (১.০% PVP-I) এবং গলার স্প্রে (০.৪৫% PVP-I)।
জীবাণু সংক্রমণের বিরুদ্ধে চিকিত্‍‌সায় টপিক্যাল অ্যান্টিসেপটিক পণ্য হিসেবে বিটাডিন মূলত ব্যবহার করা হয়।

এর মধ্যে পোভিডোন-আয়োডিন উপাদান রয়েছে। এই সিলিউশন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস-সহ মধ্য প্রাচ্যের রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম (MERS), সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম (SARS) বিরুদ্ধে কার্যকর হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে বলে সিঙ্গাপুরের গবেষকেরা জানিয়েছেন।

যে কারণে বিভিন্ন হাসপাতালেও এখন এই ওষুধটির ব্যবহার শুরু হয়েছে । বিশেষত চিকিত্‍‌সকসহ সামনের সারিতে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের বিটাডিন ব্যবহার করতে বলা হচ্ছে। সংক্রমণের ঝুঁকি যাদের মধ্যে প্রবল।

মুন্ডিফার্মা সিইও রমন সিং বলেন, সিঙ্গাপুরের গবেষণায় আমাদের মতামতটি নিশ্চিতভাবে উঠে এসেছে। পিপিই-সহ অন্যান্য প্রতিরোধমূলক চিকিত্‍‌সা বিকল্পগুলোর সঙ্গে বিটাডিন অ্যান্টিসেপটিক পণ্যগুলো কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে পারে।

সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞরা শুধু নন, জাপান সরকারও বিশ্বাস করে বিটাডিন কোভিডে কার্যকরী। জাপানের গভর্নর ওসাকা বিটাডিনকে সারস-সিওভি-২’এর ওষুধ হিসেবে অনেক আগেই প্রচার শুরু করেন। জাপানি গবেষকেরা ৪১ কোভিড রোগীর উপর বিটাডিন প্রয়োগ করে দেখেন। এদের প্রত্যেকের হালকা উপসর্গ ছিল। পানিতে পোভিডোন-আয়োডিন (এর মধ্যে বিটাডিন রয়েছে) মিশিয়ে, আক্রান্তদের দিনে চার বার করে গার্গল করানো হয়। দেখা যায় আশাতীত ফল মিলেছে।

ওসাকার মেয়র ইচিরো মাতসুই বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে আমরা প্রথম থেকে গার্গলের উপর জোর দিয়ে এসেছি। লোকজনকে বলেছি, হাত ধোওয়া, মুখে মাস্ক পরার পাশপাশি গার্গলিং করতে।’ তাঁর কথায়, আমরা দেখেছি, শুধু জলে গার্গল করার থেকে বিটাডিন দিয়ে গার্গলে অনেক ভালো রেজাল্ট মিলেছে।

তবে, বিটাডিন নিয়ে কোভিডি নিরাময়ের এই গবেষণা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নিশ্চিত হতে, আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *