নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভোক্তা পর্যায়ে আলুর কেজি ৩০টাকা মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে  বাংলাদেশ কৃষি বিপণন অধিদফতর। এছাড়াও কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ২৩টাকা, পাইকারি পর্যায়ে ২৫টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর এ বিষয়ে দেশের সব জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে রাষ্ট্রীয় এ সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

সরকারের নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি,কঠোর মনিটরিং ও নজরদারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ডিসিদের অনুরোধ করা হয়েছে চিঠিতে।

কৃষি বিপণন অধিদফতরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশে আলুর পর্যাপ্ত মজুদ থাকায় খুচরাপর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ৩০টাকা বিক্রি করতে হবে। পাইকারি পর্যায়ে ২৫টাকা আর হিমাগার পর্যায়ে কেজি ২৩টাকা বিক্রি করতে হবে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে গত আলুর মৌসুমে প্রায় এক কোটি ৯ লাখ টন আলু উৎপাদিত হয়েছে , দেশে মোট আলুর চাহিদা প্রায় ৭৭ লাখ ৯ হাজার টন। এতে দেখা যায় যে, গত বছর উৎপাদিত আলু থেকে প্রায় ৩১ লাখ ৯১ হাজার টন আলু উদ্বৃত্ত থাকে। কিছু পরিমাণ আলু রফতানি হলেও ঘাটতির সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।

আলুর মৌসুমে যখন হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে তখন প্রতি কেজি আলুর মূল্য ছিল সর্বোচ্চ ১৪ টাকা। প্রতি কেজি আলুতে হিমাগার ভাড়া বাবদ তিন টাকা ৬৬ পয়সা, বাছাই খরচ ৪৬ পয়সা, ওয়েট লস ৮৮ পয়সা, মূলধনের সুদ ও অন্যান্য খরচ বাবদ ২ টাকা ব্যয় হয়। অর্থাৎ এক কেজি আলুর কোল্ড ষ্টোরেজ পর্যায়ের সর্বোচ্চ ২১ টাকা খরচ পড়ে।

সংরক্ষিত আলুর কোল্ডস্টোরেজ পর্যায়ে বিক্রয় মূল্যের ওপর সাধারণত ২ থেকে ৫ শতাংশ লভ্যাংশ, পাইকারি পর্যায়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ যোগ করে ভোক্তার কাছে আলু বিক্রয় করা যুক্তিযুক্ত। এক্ষেত্রে হিমাগার পর্যায় থেকে প্রতি কেজি আলু ২৩ টাকা মূল্যে বিক্রি করলে আলু সংরক্ষণকারীর ২ টাকা মুনাফা হয় বলে প্রতীয়মান হয়।

অন্যদিকে আড়তদারী, খাজনা ও লেবার খরচ বাবদ ৭৬ পয়সা খরচ হয়। সেই অনুযায়ী পাইকারি মূল্য (আড়ৎ পর্যায়) ২৩ টাকা ৭৭ পয়সার সঙ্গে মুনাফা যোগ করে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা দেয়া যেতে পারে। এজন্য হিমাগার পর্যায় থেকে প্রতি কেজি আলুর মূল্য ২৩ টাকা, পাইকারি/আড়তের এর মূল্য ২৫ টাকা এবং ভোক্তা পর্যায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৩০ টাকা হওয়া বাঞ্ছনীয়।

সম্প্রতি খুচরা বাজারে কেজিপ্রতি আলুর দাম ৫০-৫৫ টাকায় গিয়ে ঠেকে। আকস্মিক এই মূল্যবৃদ্ধির জন্য খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি বিক্রেতাদের, আর পাইকারি বিক্রেতারা হিমাগার মালিকদের দুষছেন।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *