আন্তর্জাতিক ডেস্ক:


আজ থেকে ৩০ বছর আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৪ জন নারী ও কিশোরীকে হত্যা করে লী চুয়া জি। চাঞ্চল্যকর এই সিরিয়াল খুনের জন্য গত সোমবার তাকে গ্রেপ্তার করা হল। তবে গ্রেপ্তার হওয়ার পর লী বলে, ‘আমাকে এতদিন গ্রেপ্তার করা হয়নি দেখেই তো আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি’!

একবছর আগে পুলিশের কাছে অপরাধের স্বীকারোক্তি দিলেও এই প্রথম জনসমক্ষে খুনের ব্যাপারে কথা বলে লী। সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার সুয়োন শহরের আদালতে সবার সামনে লী বলে, ‘সারাজীবন এই অপরাধ চাপা থাকবে না তা আমি জানতাম’।

১৯৮৮ সালে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে ইউন নামে একজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০ বছর কারাভোগ করার পর ২০০৮ সালে নির্দোষ প্রমাণিত হন তিনি এবং তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরও ১২ বছর পর ২০২০ সালে এসে মূল অপরাধী লীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

১৯৮৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দেশটির হোয়াসিয়ং অঞ্চলে ১০ জন নারী ও কিশোরীকে হত্যা করা হয়। জায়গাটির নাম অনুযায়ী এই চাঞ্চল্যকর সিরিয়াল হত্যাকে ‘হোয়াসিয়ং মার্ডার’ নাম দেয়। একটি হত্যার জন্য ইউনকে গ্রেপ্তার করা হলেও অনেক দিন পর্যন্ত বাকি ৯টি হত্যার কোন মিমাংসা হয়নি। এই হত্যা মামলাগুলো নিয়ে ২০০৩ সালে ‘মেমোরিস অফ মার্ডার’ নামে একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন অস্কারজয়ী নির্মাতা বং জুন হো।

খুনের জায়গা থেকে করা বেশ কিছু ডিএনএ পরীক্ষার ফল লী এর সঙ্গে মিলে যায়। গতবছর এই ফল পুলিশের হাতে আসে। ২০ বছর ধরে নিজের নিরপরাধ হওয়ার দাবি করে আসছিল ইউন। ডিএনএ পরীক্ষায় লী এর সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়ার পর ইউনকে পুনরায় আইনী প্রক্রিয়া শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়।

এই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে সোমবার আদালতে উপস্থিত করা হয় লীকে। সেখানে লী বলে, ‘আমাকে গ্রেপ্তার করতে এত সময় লাগল কেন পুলিশের তা আজও বুঝতে পারি না আমি। এই হত্যাকান্ডগুলো ঘটার সময় আমি প্রমাণ লুকানোর তেমন কোন চেষ্টাই করিনি। এমনকি আমাকে সেই সময় যখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আমার হাতে নিহত একজনের ঘড়িও ছিল। অথচ আমাকে ছেড়ে দেওয়া হল। অসংখ্য পুলিশ বাহিনী, গোয়েন্দার মুখোমুখি হয়েছি আমি। অথচ তারা সবাই আমাকে আশেপাশের লোকজন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে ছেড়ে দিয়েছে।’

১৩ বছরের সেই কিশোরীকে হত্যার বর্ণনা দেওয়ার সময় লী এর মধ্যে কোন আবেগ বা অনুশোচনা দেখা যায়নি। আদালতে খুব সাবলীল কণ্ঠেই সে বলে, ‘এটা আসলে ঝোঁকের মাথায় করেছিলাম আমি’।

লী বলে, ‘আমি শুনেছি এই হত্যাগুলোর জন্য অনেকে অন্যায়ভাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, যন্ত্রণা ভোগ করেছেন। আমি তাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আজকে আদালতে আমি আমার অপরাধ স্বীকার করছি যাতে করে নিহত ও নির্দোষদের স্বজনরা সত্য জেনে মনে কিছুটা হলেও শান্তি পান। বাকি জীবন এই অন্যায়ের জন্য অনুশোচনা করব আমি’।

১৯৯৪ সালে নিজের শ্যালিকাকে হত্যা করার অপরাধে কারাগারে আছে লী নিজেও।

সূত্র:-দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *