সিএনএস ডেস্ক:

আজ ৩ নভেম্বর। শোকাবহ জেলহত্যা দিবস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দ্বিতীয় কলঙ্কজনক অধ্যায় এই দিনটি।


১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রত্যক্ষ নেতৃত্বদানকারী বাঙালির জাতীয় ইতিহাসে চারটি বরেণ্য নাম ‘সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামান’। স্বাধীনতা প্রাপ্তির মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নৃশংস ও নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের তিন মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ৩ নভেম্বর বর্বরোচিত সেই হত্যাকাণ্ড ঘটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সুরক্ষিত রাষ্ট্রীয় আশ্রয়ে! তাদেরও হত্যা করা হয় নৃশংসভাবে। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সবচেয়ে ঘৃণিত, বিশ্বাসঘাতক সদস্য হিসেবে পরিচিত এবং স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক আহমদের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের হাতেই এ নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটে।

১৯৭১ সালের জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ সফল পরিণতির দিকে অগ্রসর হয়েছিল এ চার জাতীয় নেতার যৌথ নেতৃত্বে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গঠনে তারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিলেন। আমাদের দুর্ভাগ্য, মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা পরিকল্পিতভাবে সংগঠিত হয়েছে, বিজয়ী শক্তি পরাজিতদের অপতৎপরতার খোঁজ রাখতে ব্যর্থ হয়েছে; অতএব আঘাত আসে। আঘাত আসে প্রথমে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট, এরপর একই বছরের ৩ নভেম্বর।

পাকিস্তানের বঙ্গীয় দোসররা চেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ ও গণমানুষের অপরিসীম ত্যাগে সৃষ্ট সেক্যুলার, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রকে ষড়যন্ত্রের আবর্তে নিক্ষেপ করতে, যেন বাংলাদেশ পথচ্যুত হয়; মুখ থুবড়ে পড়ে। পঁচাত্তর-পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সাক্ষ্য দেয়- বঙ্গবন্ধু ও তার চার ঘনিষ্ঠ সহচরকে হত্যার মাধ্যমে পঁচাত্তরের ঘাতকরা সদ্য সৃষ্ট বাংলাদেশকে তার ইতিহাসের স্বাভাবিক যাত্রাপথ থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল; ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিল আবারও পাকিস্তানি ‘লিগেসির’ কাছে।

১৫ আগস্টের রক্তপাতের মধ্য দিয়ে খন্দকার মোশতাক রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলেও ঘাতকচক্র স্বস্তিতে থাকতে পারেনি। স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি মোশতাক ও ঘাতক সেনারা তাদের ক্ষমতার প্রায় পুরোটা সময় বঙ্গভবনের মধ্যে আবদ্ধ থেকেছে। এ সময় বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভার অনেক সদস্য খুনি মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছেন- কেউ স্বেচ্ছায়, কেউ বা বাধ্য হয়ে। কিন্তু দৃঢ়চিত্ত এ চার জাতীয় নেতা মোশতাকের আমন্ত্রণ ঘৃণায় প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তারা জীবন দিয়েছেন; কিন্তু আত্মসমর্পণ করেননি।

জেল হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী


জেল হত্যা দিবস উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ঘাতক চক্রের উদ্দেশ্য ছিল দেশে অগণতান্ত্রিক স্বৈরশাসনের উত্থানের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে মুছে ফেলা। কিন্তু তাদের সেই উদ্দেশ্য সফল হয়নি। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার আদর্শ চির অম্লান থাকবে।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ৩ নভেম্বর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত দিন। কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড ছিল জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার ধারাবাহিকতা। এ ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি, দেশবিরোধী চক্র বাংলার মাটি থেকে আওয়ামী লীগের নাম চিরতরে মুছে ফেলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস এবং বাঙালি জাতিকে নেতৃত্বশূন্য করার অপচেষ্টা চালিয়েছিল। আমরা জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারকাজ সম্পন্ন করেছি। জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচারও সম্পন্ন হয়েছে।

রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচি


আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে আজ মঙ্গলবার সূর্য উদয় ক্ষণে ভবন ও দলীয় কার্যালয়সহ দেশের সর্বত্র সংগঠনের শাখা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন।

সকাল ৮টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করবে আওয়ামী লীগ। এছাড়া ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, সহযোগী সংগঠনসহ মহানগরের প্রতিটি শাখার নেতাকর্মীরা যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। সকাল পৌনে ৯টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের কালরাতে নিহত সব শহিদ ও কারাগারে নির্মমভাবে নিহত জাতীয় নেতৃবৃন্দের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ মাহফিল ও মোনাজাত হবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *