সিএনএস ডেস্ক:

আজ (শুক্রবার) ১২ রবিউল আউয়াল, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:)।

প্রায় ১৪শত বছর আগে আরবের মরু প্রান্তরে আজকের এইদিনে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নেন সর্বকালের সর্ব শ্রেষ্ঠ মহামানব, মানবতার মুক্তির দূত সাইয়্যেদুল মুরসালিন মুহাম্মাদ (সা:)। মাত্র ৬৩ বছর বয়সে অন্ধকারাবৃত দিকহারা পৃথীবিবাসীকে আলোর পথের দিশা দিয়ে আবার এই দিনটিতেই তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান।এ জন্য এদিনটিকে ওফাত দিবসও বলা হয়।

দিনটিকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী বা সিরাতুন্নবী (সা:) হিসেবে পালন করে আসছে বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায়।করোনাকালেও সারাদেশে যথাযত স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দিনটি উদযাপিত হবে।

রাসুল (সা:) যখন পৃথীবিতে আসেন তখন আরবজাহানসহ গোটা দুনিয়ার মানুষ ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। তখনকার দুনিয়াবাসী ধ্বংশের শেষ প্রান্তে পৌছে গিয়েছিল। তখনকার সময়ে কন্যা সন্তান জম্ম নেয়া ছিল সমাজে লজ্জার,তাই কন্যা সন্তান জম্ম নেয়ার পর তারা সন্তানটিকে জীবিত মাটিতে ফুঁতে পেলতো। এবং মানুষ মানুষকে কৃতদাশ হিসেবে ব্যাবহার করতো। ইতিহাসে সে যুগকে বলা হয়, ‘আইয়ামে জাহেলিয়াত’ যুগ।

রাসুল মুহাম্মাদ (সা:) তখনকার অন্ধকারাচ্ছন্ন এ সমাজকে আল্লাহর দেয়া বিধান আল কোরআনের আলোকে পরিপূর্ণ আলোকিত করে কন্যা হিসেবে জম্ম নেয়া লজ্জার! এ নারীকে দিয়েছেন ‘সর্বোচ্ছ সম্মান’ বলেছেন নারীরা তোমাদের মায়ের জাত তাদের পায়ের নিচে রয়েছে তোমাদের জান্নাত। আর কৃতদাশের তকমা পাওয়া মানুষের মাঝে তৈরি করেছিলেন সামাজিক বন্ধন। ঘোষনা করেছিলেন তোমরা কেউ কারো মালিক নন।সকল মুসলিম একে অন্যের ভাই।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

বাণীতে মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ধর্মীয় ও পার্থিব জীবনে মহনবী মুহাম্মদ (সা:) এর শিক্ষা সমগ্র মানবজাতির জন্য অনুসরণীয়।

পবিত্র কুরআনে তাঁর জীবনকে বলা হয়েছে ‘উসওয়াতুন হাসানাহ্’ অর্থাৎ সুন্দরতম আদর্শ।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মহানবী (সা:)-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই মুসলমানদের অফুরন্ত কল্যাণ, সফলতা ও শান্তি নিহিত রয়েছে।

করোনা মহামারীসহ আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে প্রিয় নবী (সা:)-এর অনুপম শিক্ষার অনুসরণ ও ইবাদতের মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি, ন্যায় এবং কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে।

দিনটি উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা ও কোরআন খতমসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, মসজিদ ও মাদরাসা। তবে সবকিছু হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। আর কারোনার কারণে কিছুটা সীমিত পরিসরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *