নিজস্ব প্রতিবেদক:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন ৪ হাজার ২৩ জন। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। ঢাকা-১৮ আসনে ৫৬ জন, নওগা-৬ আসনে ৩৪ জন, ঢাকা-৫ আসনে ২০ জন, পাবনা-৪ আসনে ২৭ জন, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ৩ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

যে কোনো নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে ভোটে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দষ্ট নীতিমালা নেই। দলীয় গঠনতন্ত্রেও নেই তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রিতে রেকর্ড হয়। সর্বশেষ বেশ কয়েকটি উপনির্বাচন সামনে রেখে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণ করলে সেখানেও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। তবে দলীয় মনোনয়ন ফরম বিতরণে শর্ত আরোপ করতে চায় আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, টানা তিন মেয়াদে সরকার গঠন করায় দলে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা দীর্ঘ হয়েছে। নেতৃত্বের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে সংখ্যাটা বৃদ্ধি পায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি উপনির্বাচন সামনে রেখে যে পরিমাণ মনোনয়ন ফরম বিতরণ হয়েছে তা অস্বাভাবিক। এতে তৃণমূলের অনেক অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদরা বিব্রত হয়েছেন।

বিভিন্ন উপজেলা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখিন হওয়া লাগে না। যে কেউ চাইলেই নির্দিষ্ট ফি জমা দিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে পারেন। এ কারণে ঢালাওভাবে মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়। মনোনয়ন ফরম নিলেই যে মনোনয়ন পাওয়া যাবে সেটা কিন্তু না। মনোনয়ন নির্ধারণ হয় মনোনয়ন বোর্ড থেকে। বোর্ডের সদস্যরা নেত্রীর উপর দায়িত্ব দেন।

সুতরাং কেউ মনোনয়ন ফরম চাইলেই পাওয়া যায়; কিন্তু আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মোটেও সহজ নয়। অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার প্রয়োজন হয়। অনেকেই নেত্রীর স্বাক্ষাত পেতে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। কারণ নির্বাচনের আগে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কথা শোনেন নেত্রী। তবে ইদানিং অনেক অর্বাচিন নেতাকর্মী দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করছেন, যা অনেকটাই হাস্যকর।

অবিভক্ত উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম তোফাজ্জেল হোসন বলেন, এমন অনেকেই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন যেটি শুনে লজ্জা পেয়েছি। আমরা লজ্জিত। একটি আসন থেকে হঠাৎ করে ৫৬ জন মানুষ মনোনয়ন কিনতে পারেন না।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক  বলেন, আসন্ন নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা হওয়ার মধ্য দিয়ে আমরা একটি জিনিস বুঝতে পেরেছি, মনোনয়ন কেনার ক্ষেত্রেও কিছু শর্ত থাকা উচিত। শর্ত না থাকলে এ ধরনের বেপরোয়া আবেদনপত্র জমা পড়ে। যেটা আসলে দলের জন্য খুব সুখকর হয় না। আমরা বিষয়টি বিচেনায় রাখছি এবং আলোচনায় রাখছি। এত সংখ্যক আবেদনকে নিরুৎসাহিত করছি। সেটি কিভাবে করা যায় সেই পথ আমরা বের করবো।

দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার প্রবণতা এত বেশি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার যে যোগ্যতা, আমার মনে হয় যারা আবেদন করেন তারা অনেকেই হয়তো এটি সম্পর্কে জানেন না। একটি দলের কাছে মনোনয়ন আবেদন করতে হলে ত্যাগ, তিতীক্ষা থাকতে হয়।

যদিও আওয়ামী লীগ একটি প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল। এ দলে বহু যোগ্য নেতৃত্ব রয়েছে। যোগ্য নেতৃত্ব থাকলেও তার সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য জনভিত্তি প্রয়োজন, মানুষের মাঝে অবস্থান থাকা প্রয়োজন। এ বিষয়গুলো বিবেচনা করে আবেদন করা উচিত। মনোনয়নপত্র বিতরণের ব্যাপারে আমি মনে করি কিছু শর্ত দেয়া উচিত। আমরা এ বিষয়গুলো আলোচনা করবো।

যেন বেপরোয়াভাবে, লাগামহীনভাবে যেন মনোনয়ন বিতরণ করা না হয়। নির্দিষ্ট কিছু ক্রাইটেরিয়া থাকা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *