অনলাইন ডেস্ক:

সারাদেশে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি ও নারীর প্রতি সহিংসতার ক্রমবর্ধমান ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

সম্প্রতি সিলেটের এমসি কলেজে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের মতো ঘটনাগুলো মানুষের মনে জমে থাকা ক্ষোভকে বিক্ষোভে রূপ দিয়েছে।

অফলাইন বা অনলাইন, রাজপথ বা ভার্চুয়াল সর্বত্র আজ প্রতিবাদে সামিল হয়েছে জনতা। নারীর প্রতি সহিংসতায় প্রতিবাদের অংশ হিসাবে নারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক প্রোফাইলে কালো ছবি দিচ্ছেন, অনেকে আবার রাজপথের প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন।

‘নারী ছাড়া বিশ্ব কেমন হতে পারে তা দেখানোর জন্য এই আন্দোলন। আপনার প্রোফাইলের ছবিটি কালো করে দিন, যাতে পুরুষরা ভাবে নারীরা কোথায়? এটি শুধু নারীদের কাছে পাঠান। এটা নারীর প্রতি সহিংতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ।’

এমন একগুচ্ছ বার্তায় ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে প্রায় প্রতিটি নারী পতিটি নারীকে দিচ্ছেন এবং ফেসবুকের প্রোফাইল ছবি কালো করে সেই প্রতিবাদে সক্রিয়ভাবে সামিল হচ্ছেন।

ধর্ষণসহ নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতার প্রতিবাদে আজা সারা দেশে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষকে অংশ নিতে দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গৃহবধূকে নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীতেও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ’ ব্যানারে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টসহ বিভিন্ন বামপন্থি দলের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হয়েছিলেন। যারা ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ ধর্ষণের ঘটনায় নানা প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন।

এদিকে, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কি বলছেন?

নোয়াখালীর নারী নির্যাতনের ঘটনায় আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নোয়াখালীতে নারী নির্যাতনের পর ভিডিও ছড়িয়ে দেয়া এক জঘন্য ঘটনা। আমরা তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা নিয়েছি। ইতোমধ্যে অপরাধীদের প্রায় বেশির ভাগকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, সিলেট এমসি কলেজের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে। নোয়াখালী ও এমসি কলেজের ঘটনায় নির্ভুল তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হবে যাতে আসামিরা সর্বোচ্চ শাস্তি পায়।

নোয়াখালীর ঘটনা এক মাস আগের হলেও এত পরে কেন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা যখনই তথ্য পেয়েছি তখনই ব্যবস্থা নিয়েছি। এসব ঘটনা অনেক সময় ভুক্তভোগী জানাতে চায় না। তারপরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানার সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

ধর্ষণের ঘটনা বিচারহীনতার কারণে ঘটছে কি না এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি ঘটনায় সাথে সাথে বিচার হচ্ছে। এখানে বিচারহীনতার কোনো বিষয় নেই।’

‘যতগুলো ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তা আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নিচ্ছি,’ বলেন আসাদুজ্জামান খান।

ইউএনবি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *