নিজস্ব প্রতিবেদক,সিলেট:

সিলেট এমসি (মুরারিচাঁদ) কলেজের শতবর্ষী ছাত্রাবাস। ৮ বছর আগে এই ছাত্রাবাসটি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো। এরপর সরকারের তরফ থেকে এমসি’র এই ছাত্রাবাসকে আগের আদলেই পুনঃনির্মাণ করা হয়। এখনো নির্মাণাধীন ওই ভবন। তবে চার বছর আগে থেকেই এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষ হলের দু’তলা এবং তিন তলায় ছাত্র তুলেছে।

প্রতি তলায় বসবাস করেন ৩৬ জন ছাত্র। নিচে ডাইনিং। চতুর্থ তলাটি এখনো নির্মাণাধীন। ছাত্ররা বসবাস করলেও নবনির্মিত হলের বাইরে এখনো বিদ্যুতায়ন হয়নি। সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকার হয়ে পড়ে পুরো এলাকা।

হলের দু’তলায় উঠলেই বাম পাশে পড়ে আলোচিত ২০৫ নম্বর কক্ষ।এই কক্ষেই বাস ছাত্রলীগের ‘ভয়ঙ্কর’ কর্মী শাহ মাহবুবুর রহমান রনির। তার নামেই এই রুমটি বরাদ্দ।

গত বছর সে এমসি কলেজ থেকে মাস্টার্স পাস করলেও হলের ওই রুমটি ছাড়েনি। এখনো রুমটি তার নামেই বরাদ্দ রয়েছে। জোরপূর্বক কক্ষটি দখল করে অপরাধ আঁখড়ায় পরিণত করেছে রনি নিজেই। তার ভয়ে তটস্থ থাকেন হলের অন্য সাধারণ ছাত্ররা। সন্ধ্যা নামলেই এই কক্ষেই ছুটে আসতো হলের আশপাশের এলালাকার পেশাদার অপরাধীরা।

মাদক সেবন, নারীর সঙ্গ সবই হতো এই কক্ষে। সবই দেখতেন হলে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা। কিন্তু কেউ কোনো প্রতিবাদ করতেন না। এমনকি ফিরেও চাইতেন না এই কক্ষের দিকে।

বছর দু’এক আগে ওই কক্ষে এক ছাত্রকে নিয়ে টর্চার করা হয়েছিলো। এরপর থেকেই রনির কক্ষটি সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে আতঙ্কের রুম হিসেবেই পরিচিত। মার্চ মাস থেকে হল বন্ধ,কিন্তু রনি তার কক্ষেই বসবাস করছিলো। তার জন্য খোলা ছিল হলের ডাইনিংও। মার্চ থেকে হল সুপাররা থাকেন না, যার ফলে হলের নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেন রনি।

২০৫ নম্বর রুমে সব সময় আড্ডা দিতো রনি, সাইফুর, রবিউল সহ সব ধর্ষক। তারা ওই কক্ষে বসেই ইয়াবা সহ নানা রকম মাদক সেবন করতো। আড্ডা দিতো, চিৎকার করতো। সন্ধ্যার পর মাঝে মধ্যে তারা হলের বাইরে খোলা জায়গায় অবস্থান নিতো।  ওখানে বসে তারা মাদক সেবন করতো।

পাশেই বালুচর, টিলাগড়। ওখান থেকে স্থানীয় পেশাদার অপরাধীরা নেশার আখড়ায় নিয়মিত সামিল হত।মূলত রনির কারণেই বহিরাগতরা হরহামেশাই হলে অবাধে যাতায়াত করতো।

সাধারণ ছাত্রদের অভিযোগ,কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নিতনা।বরং তারা যেসব কর্মকাণ্ড করে বেড়াতো সে গুলোই যেন বৈধ।

সম্প্রতি রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এক নববধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার পর রাতেই সিলেটের শাহপরান থানার পুলিশ হলের আলোচিত সেই ২০৫ নম্বর কক্ষে অভিযান চালায়। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, হলে রনির কক্ষ ছিল সকল অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু এখানে বসেই আশপাশের এলাকার পেশাদার অপরাধীরা নিরাপদে মাদক সেবন ও নিজেদের এলাকায় অপরাধ করে এখানে আশ্রয় নিত। যেহেতু শিক্ষাঙ্গনের ছাত্রাবাস, তাই পুলিশের কোন রকম অভিযানও এখানে হতোনা।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *