নিজস্ব প্রতিবেদক,বগুড়া:
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় দাম্পত্য কলহের জেরে নিজের ঘরের মধ্যে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রহিমা খাতুনকে (৩০) ধারাল অস্ত্রের মুখে জিম্মি করেছিলেন স্বামী পলাশ প্রামানিক (৪২)। জিম্মি করার পর রহিমা খাতুনের গলায় ধারাল অস্ত্র ঠেকিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন তিনি, নিজেও দেন আত্মহত্যার হুমকি।

ওই সংবাদ পেয়ে পুলিশ দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে অন্তঃসত্ত্বা রহিমাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে। এসময় ওই স্বামী পলাশকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল সোমবার উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের মাজবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তারকৃত পলাশ প্রামানিক ওই এলাকার দুলাল প্রামানিকের ছেলে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ধুনট থানা থেকে আদালতের মাধ্যমে তাকে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার নিমগাছি গ্রামের জিল্লার রহমানের মেয়ে রহিমা খাতুনের প্রায় ১০ বছর আগে পলাশ প্রামানিকের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের অভাব অনটনের সংসারে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল। এরই মাঝে তাদের দাম্পত্য জীবনে চার বছর আগে এক ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। বর্তমানে রহিমা খাতুন ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

গতকাল সোমবার সকালে পলাশের সঙ্গে রহিমার ঝগড়া হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে রহিমা অভিমান করে বাবার বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এসময় পলাশ তার স্ত্রীকে জোরপূর্বক ঘরের ভেতর নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। রহিমার গলায় ধারাল ছুরি ধরে হত্যা করবে বলে ভয় দেখায় পলাশ। এ সময় রহিমার চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কিন্তু কেউ ঘরে প্রবেশ করলে রহিমাকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যার করবেন বলে পলাশ হুমকি দেন। ফলে কেউ ঘরে প্রবেশ করতে সাহস পায়নি।

এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুর রশিদ, গাজিউর রহমান ও ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালাসহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা নানা কৌশলের পর অবশেষে ঘরের সিঁধ কেটে ঘরে প্রবেশ করে রাত ৮টার দিকে রহিমাকে উদ্ধার করেন ও তার স্বামী পলাশকে ছুরিসহ গ্রেপ্তার করেন।

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, ‘পাঁচ ঘণ্টা অভিযানের পর পলাশ ও রহিমা দম্পতির জীবন রক্ষা করা গেছে। এ ঘটনায় রহিমার পক্ষ থেকে কেউ বাদী না হওয়ায় পলাশকে ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রহিমা খাতুনকে তার মা-বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *